The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

যুদ্ধবিরতির পর হতে গাজায় প্রতিদিন ২ জন শিশু নিহত হচ্ছে: ইউনিসেফ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর হতে সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় কমপক্ষে ৬৭ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ।

যুদ্ধবিরতির পর হতে গাজায় প্রতিদিন ২ জন শিশু নিহত হচ্ছে: ইউনিসেফ 1

সংস্থার মুখপাত্র রিকার্ডো পাইরেস বলেছেন যে, সেইসঙ্গে আরও কয়েক ডজন শিশু আহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ জন শিশু নিহত হচ্ছে।

ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে যে, দক্ষিণ গাজার পূর্ব খান ইউনিসে বিমান হামলায় এক শিশু কন্যা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিহত হয়েছে। গত বুধবার একদিনেই গাজা শহর ও দক্ষিণে বিমান হামলায় ৭ জন শিশু নিহত হয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে যে, গাজায় তাদের চিকিৎসক দলগুলো এই সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণের কারণে আহত নারী এবং শিশুদের চিকিৎসা দিয়েছে।

তাদের মনে করেন, গত বুধবার হতে উত্তর এবং দক্ষিণ গাজার চিকিৎসাকর্মীরা খোলা ফ্র্যাকচার ও মাথা এবং অঙ্গে গুলিবিদ্ধ ক্ষতযুক্ত নারী এবং শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হতে ৪৪ দিনে ইসরায়েল কমপক্ষে ৪৯৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গত নভেম্বর মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। গাজায় যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যা মামলার মুখোমুখি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর হতে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় প্রায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। গণহত্যা এবং মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের এই যুদ্ধে আরও ১ লাখ ৭০ হাজেরর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali