The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১৯৪ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল

(250220) -- GAZA, Feb. 20, 2025 (Xinhua) -- Palestinians are pictured among destroyed houses in Beit Hanoun, in the northern Gaza Strip, on Feb. 19, 2025. (Photo by Rizek Abdeljawad/Xinhua)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ফিলিস্তিনের সরকারি মিডিয়া অফিস গতকাল রবিবার (২ নভেম্বর) অভিযোগ করেছে যে, গাজায় গত ১০ অক্টোবর হতে শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অন্তত ১৯৪ বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১৯৪ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল 1

সংস্থাটির পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এইসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে সামরিক অনুপ্রবেশ, গুলি এবং গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এও চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ, তাঁবু ওএবং মোবাইল হোম গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হতে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ১৯৪ বার এটি লঙ্ঘন করেছে। আমরা আশা করেছিলাম এই চুক্তি কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে, তবে তা হয়নি।’ তিনি আরও জানান, তাদের অফিস এই লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে।

ইসরায়েলি বাহিনী বারবারই ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় যানবাহন পাঠাচ্ছে, বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে ও এইসব হামলায় বহু মানুষ হতাহত হচ্ছে বলেও থাওয়াবতেহ জানিয়েছেন। ‘হলুদ রেখা’ বলতে মূলত বোঝানো হয়েছে সেই অঞ্চলকে, যেখান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ১০ অক্টোবর হামলা প্রত্যাহার করে। এটি একটি অদৃশ্য বিভাজন রেখা, যা গাজা শহরের দক্ষিণ এবং খান ইউনিসের উত্তরের মধ্যদিয়ে গাজা উপত্যকাকে দু’টি অংশে ভাগ করেছে।

থাওয়াবতেহ ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘হলুদ রেখা’র কাছাকাছি যাওয়া বিপজ্জনক, কারণ ইসরায়েল আগেও কোনো সতর্কতা ছাড়াই সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েল এখনও ত্রাণ কনভয়গুলোর পূর্ণ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নিতে মিশরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালুও করেনি।

মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, চুক্তির আওতায় অনুমোদিত ১৩,২০০ ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৩,২০৩টি গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে- যা ত্রাণের মাত্র ২৪ শতাংশ। ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবেই মানবিক সংকট আরও তীব্র করছে এবং রাফাহ সীমান্তে মিশরের দিকে ৬ হাজারের বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে রেখেছে বলে থাওয়াবতেহ অভিযোগ করেছেন।

মিডিয়া অফিস জানায় যে, যুদ্ধবিরতি প্রোটোকলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য শত শত ভারি যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি; কেবল ইসরায়েলি বন্দীদের মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য সীমিত কিছু যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে অফিসটি আরও জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ৯,৫০০ ফিলিস্তিনি নিখোঁজ কিংবা নিহত অবস্থায় পড়ে আছেন। এ ছাড়াও প্রোটোকলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য ৩ লাখের বেশি তাঁবু এবং মোবাইল হোম প্রবেশের কথা বলা হয়েছিল, তবে ইসরায়েল তা কার্যকর না করায় প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার বর্তমানে রাস্তায় কিংবা উন্মুক্ত স্থানে বসবাস করছে।

গাজা সরকারের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এ পর্যন্ত ভূখণ্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামোই ধ্বংস করেছে দখলদার বাহিনী। যে কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিও হয়েছে। থাওয়াবতেহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেনো তাঁরা অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ইসরায়েলকে চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন ও চুক্তিলঙ্ঘন বন্ধে বাধ্য করেন। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali