দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাঁচা মরিচ আমাদের রান্নাঘরের এক অপরিহার্য উপাদান। খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং ঝাঁঝ বাড়াতে এটি যেমন অসাধারণ, তেমনি এর পুষ্টিগুণও কম নয়। ছোট আকৃতির এই সবজিটিতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা শরীরকে নানা দিক থেকে উপকার করে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত পরিমাণমতো কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমেই কাঁচা মরিচের ভিটামিনের কথা বলতে হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক সুস্থ রাখে এবং ক্ষত দ্রুত সারতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ভিটামিন ‘এ’ এবং বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়, যা চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘বি৬’ এবং ফলেটও এতে রয়েছে, যা স্নায়ুর কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়ক।
কাঁচা মরিচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপাদান হলো ক্যাপসাইসিন। এই প্রাকৃতিক যৌগ মরিচের ঝাঁঝের জন্য দায়ী হলেও, এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর প্রভাব। ক্যাপসাইসিন শরীরে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে, বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। একই সঙ্গে এটি ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে এবং প্রদাহ কমাতে সক্ষম। গবেষণা বলছে, ক্যাপসাইসিন রক্তনালী শিথিল করতে সাহায্য করে, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। ফলে কাঁচা মরিচ পরিমাণমতো খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
এছাড়া কাঁচা মরিচে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরের ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে, যা বার্ধক্য বিলম্বিত করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কাঁচা মরিচের ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়, গ্যাস, অম্বল এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। যারা হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা খাদ্যতালিকায় সামান্য কাঁচা মরিচ যুক্ত করলে উপকার পেতে পারেন।
কাঁচা মরিচে পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং কপারসহ বিভিন্ন খনিজও রয়েছে। এসব উপাদান রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে, রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এবং স্নায়ুতন্ত্র দুর্বলতা দূর করতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচ শরীরকে সতেজ রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং মানসিক চাপ হ্রাস করতে সাহায্য করে এমনটিও বলা হয়।
কাঁচা মরিচ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরকে দেয় মূল্যবান পুষ্টি। তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিমাণে সচেতন থাকা জরুরি। অতিরিক্ত মরিচ পাকস্থলীতে জ্বালা কিংবা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়াতে পারে। সঠিক পরিমাণে খেলে কাঁচা মরিচ হতে পারে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর উপাদান।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org