দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্যাঁচাকে বেশ এক রহস্যময় ও আকর্ষণীয় পাখি হিসেবে দেখা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই প্যাঁচাকে প্রজ্ঞা এবং জ্ঞানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

গ্রিক পুরাণের দেবী অ্যাথেনার প্রতীকেও প্যাঁচাকে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা প্যাঁচার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এর ফলাফলে দেখা যায়, প্যাঁচা অন্য অনেক চতুর পাখির তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ধরনের।
প্যাঁচা ততোটা জ্ঞানী বলার চেয়েও কার্যকর বলা যায়। প্যাঁচার মস্তিষ্কের আকার তাদের শরীরের আকারের তুলনায় অনেকটা ছোট। তাদের মাথার খুলির একটি বিশাল অংশ দখল করে রয়েছে তাদের বিশাল চোখ এবং শ্রবণশক্তির জন্য বিশেষ কাঠামো। এদের কর্টেক্স কিংবা মস্তিষ্কের যে অংশ উচ্চতর চিন্তা প্রক্রিয়াকরণের জন্য কাজও করে, এরজন্য অপেক্ষাকৃত কম জায়গাই থাকে। প্যাঁচা মূলত একজন বিশেষজ্ঞ শিকারি। তাদের মস্তিষ্ক শিকার ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বিশেষভাবে পারদর্শীও। তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা মূলত নিবদ্ধ থাকে অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি এবং অতি-সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি প্রক্রিয়াকরণের ওপরে। প্যাঁচা নিখুঁতভাবে শিকারের অবস্থানও নির্ণয় করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা যখন প্যাঁচাকে অন্যান্য পাখির সঙ্গে তুলনা করে দেখেন, তখন দেখা যায় যে, প্যাঁচা সাধারণ জ্ঞানীয় কিংবা কগনেটিভ পরীক্ষায় খুব একটা ভালো ফল করে না। কাক এবং টিয়াপাখির মতো পাখিরা অনেকটা বুদ্ধিমান। এইসব পাখি রীতিমতো সরঞ্জামও তৈরি করতে পারে, জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারে ও মানুষের ভাষার অনুকরণও করতে পারে। তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং কার্যকারণ বোঝার মতো ক্ষমতাও দেখা যায়।
প্যাঁচার মধ্যে এই ধরনের অভিযোজন কিংবা নমনীয় আচরণ তুলনামূলকভাবে কমই দেখা যায়। তারা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তি এবং শিকারের দক্ষতার ওপর নির্ভর করেই চলে। নতুন পরিবেশে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কিংবা নতুন কৌশল উদ্ভাবনের ক্ষমতাও তাদের কম। প্যাঁচার খাদ্য লুকানো কিংবা জটিল ধাঁধা সমাধানের মতো কাজে দক্ষতা দেখাতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না।
প্যাঁচার দক্ষতায় দেখা যায়, তার অন্য সব আচরণেও। প্যাঁচার পালক এমনভাবে তৈরি যে এরা প্রায় শব্দহীনভাবে উড়তে পারে, যা তাদের শিকারের কাছাকাছি যাওয়ার সময় শব্দ কমাতেও সাহায্য করে। এটি পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করার চেয়ে বরং একটি শারীরিক অভিযোজনও। প্যাঁচার কান মাথার খুলিতে অপ্রতিসমভাবেই অবস্থিত। এই গঠন তাদের শব্দ শোনার সামান্যতম পার্থক্য ধরতেও সাহায্য করে। যে কারণে তারা তুষারের নিচে লুকিয়ে থাকা একটি ইঁদুরের অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্যাঁচাকে তার শিকার ধরার ক্ষেত্রেও অন্যান্য পাখির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তথ্যসূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org