দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্পেনের মাটির নিচে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন একটি আবিষ্কার করেছেন, যা হাজার হাজার বছর আগের এক রহস্যময় সমাজের আচার, বিশ্বাস এবং হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গবেষকরা সেখানে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো একটি ব্রোঞ্জের রথের সন্ধান পেয়েছেন। রথটি শুধু পুরোনো নয়- এর অলংকরণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট এতটাই অস্বাভাবিক যে গবেষকদের ধারণা, এটি সাধারণ যাতায়াতের জন্য নয়, বরং কোনো ধর্মীয় কিংবা আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হতো।
আবিষ্কারটি স্পেনের বাদাহোস প্রদেশে, পর্তুগাল সীমান্তের কাছাকাছি Casas del Turuñuelo নামের একটি প্রত্নস্থলে। সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন এক প্রাচীন সমাজের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন, যা বহু স্থাপনা ইচ্ছাকৃতভাবে পুড়িয়ে পরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এই সমাজের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত নয়; তবে এটি প্রাচীন আইবেরীয় অঞ্চলের Tartessian সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।
নতুন পাওয়া রথটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকই হলো এর নকশা। এতে পৌরাণিক প্রাণী এবং মুখাবয়বের অলংকরণ রয়েছে। একটি বিশেষ নকশায় গর্গন এবং অ্যাকেলুসের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। রথের পাশে গ্রিফিনের মতো পৌরাণিক প্রাণীর চিত্র রয়েছে। এইসব নকশা দেখে গবেষকরা মনে করছেন যে, রথটি সম্ভবত কোনো দেবতা কিংবা ধর্মীয় শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়েছিল।
রথটির নির্মাণশৈলীতে ইতালির প্রাচীন Etruscan সভ্যতার প্রভাব দেখা যায়। এর অর্থ, সেই সময়ের আইবেরীয় সমাজ ভূমধ্যসাগরীয় বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রাখতো। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, রথটি ব্যবহারের পর সেটিকে ভেঙে একটি স্থাপনার ভেতরে পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই আচরণ সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রী সংরক্ষণের মতো নয়; বরং কোনো বিশেষ ধর্মীয় কিংবা প্রতীকী অনুষ্ঠানের অংশও হতে পারে।
সবচেয়ে বড় রহস্য হলো- এই সমাজ নিজেদের স্থাপনা পুড়িয়ে দিয়েছিল কেনো?
প্রত্নতাত্ত্বিকরা মধ্য গুয়াদিয়ানা নদী উপত্যকায় এমন প্রায় ১৪টি স্থানের সন্ধান পান, যেখানে একই ধরনের অগ্নিকাণ্ড এবং পরিত্যাগের চিহ্ন রয়েছে। মনে হচ্ছে যে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। বরং কোনো নির্দিষ্ট সময় কিংবা পরিস্থিতিতে মানুষ পরিকল্পিতভাবে নিজেদের স্থাপনা ধ্বংস করে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলো।
তবে তারা কেনো এমন করেছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুদ্ধ, ধর্মীয় আচার, রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামাজিক সংকট বা কোনো ধরনের সম্মিলিত পরিত্যাগ- বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।
প্রাচীন রথটির আবিষ্কার তাই শুধু একটি পুরোনো যানবাহনের সন্ধানই নয়। এটি এমন এক সমাজের জীবনযাপন, ধর্মীয় বিশ্বাস, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও রহস্যময় অন্তর্ধান সম্পর্কে নতুন তথ্যও দিচ্ছে, যার অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মাটির নিচেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে।
হাজার হাজার বছর পর একটি ভাঙা ব্রোঞ্জের রথ যেনো সেই হারিয়ে যাওয়া সমাজের কাছ থেকে আজকের মানুষকে একটি প্রশ্নই করছে-তারা কেনো নিজেদের পৃথিবী পুড়িয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল?
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org