The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কী করবেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্মার্টফোন এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন, অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে ব্যাংকিং পর্যন্ত সবকিছুতেই মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে।

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কী করবেন? 1

তবে অনেক ব্যবহারকারী একটি সাধারণ সমস্যার মুখোমুখি হন- মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া। এটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ডিভাইসের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

মোবাইল গরম হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও দেখা বা ভারী অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ফোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন করে। আবার চার্জিংয়ের সময় ফোন ব্যবহার করলে বা অরিজিনাল নয় এমন চার্জার ব্যবহার করলেও ফোন দ্রুত গরম হতে পারে। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চলতে থাকলে র‍্যাম ও ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা অতিরিক্ত তাপের কারণ হয়।

পরিবেশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি রোদে ফোন রাখা বা গরম স্থানে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে ফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়। কখনো কখনো সফটওয়্যার বাগ বা ভাইরাসজনিত সমস্যাও অস্বাভাবিক গরম হওয়ার কারণ হতে পারে।

মোবাইল অতিরিক্ত গরম হলে প্রথমেই ফোনটি ব্যবহার বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দেওয়া উচিত। ফোনের কভার থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে, কারণ কভার তাপ আটকে রাখে। এরপর ফোনটি ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। তবে কখনোই ফ্রিজ বা হঠাৎ ঠান্ডা জায়গায় রাখা উচিত নয়, এতে ভেতরের অংশে ক্ষতি হতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপগুলো ফোনের প্রসেসর ব্যবহার করে, তাই সেগুলো বন্ধ করলে তাপ কমে যায়। একই সঙ্গে ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করলে ফোন কিছুটা হালকা হয়ে কাজ করে।

চার্জিংয়ের সময় ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে গেম খেলা বা ভিডিও দেখা চার্জিং অবস্থায় এড়িয়ে চলা উচিত। সবসময় অরিজিনাল চার্জার ও কেবল ব্যবহার করা নিরাপদ, কারণ নিম্নমানের চার্জার অতিরিক্ত তাপ তৈরি করতে পারে।

সফটওয়্যার আপডেট করাও একটি কার্যকর উপায়। অনেক সময় পুরোনো সফটওয়্যার ফোনের প্রসেসরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা তাপ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত আপডেট এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

যদি ফোন বারবার অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়, তাহলে এটি ভাইরাস বা হার্ডওয়্যার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উচিত।

তাই বলা যায় যে, মোবাইল ফোনকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত যত্ন অত্যন্ত জরুরি। সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই অতিরিক্ত গরম হওয়ার সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali