দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন কিংবা অনলাইন লেনদেন- সব ক্ষেত্রেই মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেড়েছে।

যে কারণে দিনে একাধিকবার ফোন চার্জ দেওয়াও এখন অনেকের অভ্যাস। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বার বার মোবাইল চার্জ দিলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
আগের সময়ের মোবাইল ফোনে নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার হতো। সেসব ব্যাটারিতে “মেমোরি ইফেক্ট” নামে একটি সমস্যা ছিল। অর্থাৎ পুরোপুরি চার্জ শেষ হওয়ার আগেই বার বার চার্জ দিলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যেত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, যেগুলো আগের প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক স্মার্টফোনে বার বার চার্জ দেওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং ব্যাটারিকে দীর্ঘসময় ০ শতাংশে নামিয়ে রাখা বা একটানা ১০০ শতাংশ চার্জে ধরে রাখাই বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। লিথিয়াম ব্যাটারি মাঝামাঝি চার্জে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার অল্প অল্প চার্জ দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ভালো অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে চার্জ দেওয়ার সময় কিছু বিষয় না মানলে ব্যাটারির আয়ু কমে যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের চার্জার বা নকল অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হতে পারে। এতে শুধু ব্যাটারির ক্ষতিই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই সবসময় ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় ফোন চার্জে দিয়ে রাখেন। আধুনিক ফোনে ওভারচার্জিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘসময় চার্জে সংযুক্ত থাকলে ব্যাটারিতে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোন চার্জের সময় বালিশ বা কম্বলের নিচে রাখা উচিত নয়। কারণ এতে তাপ বের হতে না পেরে ব্যাটারির ওপর চাপ বাড়ে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি। বর্তমানে অনেক ফোনে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে। এটি সময় বাঁচালেও অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত গরম হওয়া ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে সবসময় ফাস্ট চার্জ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ব্যাটারি ভালো রাখতে সাধারণত ২০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে রাখাকে আদর্শ ধরা হয়। এছাড়া ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কিছুক্ষণ ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং ভারী গেম বা ভিডিও চালু রেখে চার্জ না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক স্মার্টফোনে বার বার চার্জ দেওয়া নিজে থেকে বড় কোনো সমস্যা নয়। তবে সঠিক নিয়ম না মানলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। সচেতনভাবে চার্জ ব্যবহার করলে স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org