The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে নতুন অগ্রগতি: ভবিষ্যতের কম্পিউটার কতটা বদলে দিতে পারে বিশ্বকে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত গবেষণার একটি ক্ষেত্র হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থা আরও শক্তিশালী কোয়ান্টাম প্রসেসর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে নতুন অগ্রগতি: ভবিষ্যতের কম্পিউটার কতটা বদলে দিতে পারে বিশ্বকে? 1

এর ফলে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে আগামী দশকে জটিল গণনার ক্ষেত্রে প্রচলিত সুপারকম্পিউটারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার।

প্রচলিত কম্পিউটার তথ্য সংরক্ষণ করে বিটের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি বিটের মান হয় ০ অথবা ১। অপরদিকে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কিউবিট, যা একই সময়ে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে নির্দিষ্ট ধরনের জটিল সমস্যা অনেক দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ওষুধ আবিষ্কার, জলবায়ু পরিবর্তনের মডেল বিশ্লেষণ, নতুন উপাদান উদ্ভাবন এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা এমন অ্যালগরিদম তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে।

তবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক এনক্রিপশন পদ্ধতি ভবিষ্যতের শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সামনে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এজন্য বিশ্বজুড়ে ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ নিয়ে গবেষণা চলছে, যাতে ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতে এখনও সময় লাগবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতকে এখন থেকেই এই বিষয়ে গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত কম্পিউটারকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করবে না। বরং নির্দিষ্ট জটিল সমস্যার সমাধানে এটি বিশেষায়িত প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবুও এর সম্ভাবনা এতটাই বড় যে প্রযুক্তি বিশ্বের প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali