দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা আজ বরফে ঢাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন প্রমাণ পেয়েছেন, যা জানাচ্ছে-একসময় এই বরফাচ্ছন্ন ভূমিতেও ছিল ঘন সবুজ বনভূমি।

গভীর বরফস্তরের নিচে ড্রিলিং করে উদ্ধার করা নমুনায় প্রাচীন গাছের পরাগরেণু, শিকড়ের চিহ্ন এবং জৈব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, কয়েক কোটি বছর আগে অ্যান্টার্কটিকার জলবায়ু বর্তমানের মতো ছিল না। তখন সেখানে নদী, বন এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মাত। এমনকি ডাইনোসরের যুগেও এই অঞ্চলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের বহু নিচে থাকে, সেই এলাকায় একসময় গ্রীষ্মকালে গাছপালা বেড়ে উঠত। যদিও বছরের কিছু সময় দীর্ঘ অন্ধকার থাকত, তবুও সেই পরিবেশে উদ্ভিদ টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিল।
এই আবিষ্কার জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, পৃথিবীর অতীতে কীভাবে বিশাল জলবায়ুগত পরিবর্তন ঘটেছে, তা বোঝার জন্য এই তথ্য মূল্যবান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গবেষণার সময় বরফের নিচে পাওয়া মাটির স্তরে এমন কিছু জৈব উপাদানও শনাক্ত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় সেখানে একসময় পোকামাকড় ও ক্ষুদ্র প্রাণীর বসবাস ছিল। ভবিষ্যতে আরও গভীর খনন করা হলে নতুন জীবাশ্ম বা উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যান্টার্কটিকার বরফ শুধু বরফ নয়; এটি পৃথিবীর কোটি বছরের জলবায়ুর ইতিহাস সংরক্ষণ করে রেখেছে। বরফের প্রতিটি স্তর যেন একটি করে সময়ের পাতা, যেখানে লুকিয়ে আছে অতীতের পরিবেশ, তাপমাত্রা এবং জীববৈচিত্র্যের গল্প।
এই গবেষণাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত স্থানগুলোর মধ্যেও এখনও অসংখ্য অজানা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
Many users choose iptv satınal when they need stable access to international content. This creates a better first impression.
People researching iptv almanya usually care about content availability details. This makes the service easier to evaluate.