দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ লিভারে কিছু পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। তবে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার কিংবা Hepatic Steatosis বলা হয়।

বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক ক্রমেই বেশি আলোচিত হচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি প্রথমদিকে কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই ‘আমি তো সুস্থ আছি’- এই ধারণা সবসময় নিরাপদ নয়।
ফ্যাটি লিভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হলো Metabolic dysfunction-associated steatotic liver disease বা MASLD। এটি সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতার মতো বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ এবং ক্ষত তৈরি হয়ে Fibrosis, Cirrhosis এমনকি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। যাদের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ওজন কমানো লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা কিংবা কঠোর ডায়েট করা উচিত নয়।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, চিনি মেশানো কোমল পানীয়, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমানো উচিত। এর বদলে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, মাছ, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস পরিমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে।
বিশেষভাবে চিনিযুক্ত পানীয়ের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া জুস বা অন্যান্য মিষ্টি পানীয় নিয়মিত পান করলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের পাশাপাশি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যায়ামও ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার, জগিং বা পছন্দের অন্য শারীরিক কর্মকাণ্ড নিয়মিত করা যেতে পারে। সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করা আরও ভালো। ব্যায়াম করার জন্য জিমে যেতেই হবে- এমন নয়; দৈনন্দিন হাঁটা এবং সক্রিয় জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালকোহল পান করলে সেটিও নিয়ন্ত্রণ বা এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভেষজ বা ‘লিভার ডিটক্স’ পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। ‘লিভার পরিষ্কার’ করার নামে বাজারজাত অনেক পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ নাও থাকতে পারে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল কিংবা অতিরিক্ত ওজন থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখাও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারও ইতোমধ্যে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড কিংবা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের মূল কথা হলো- পেট ভরে খাওয়ার চেয়ে পুষ্টিকর খাবার, সারাদিন বসে থাকার চেয়ে নিয়মিত নড়াচড়া ও দ্রুত ওজন কমানোর বদলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। লিভারকে সুস্থ রাখতে কোনো ‘ম্যাজিক’ খাবারের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন নিয়মিত এবং সুষম অভ্যাস।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org