The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কী কী খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ক্যান্সার প্রতিরোধের কথা উঠলেই অনেকেই একটি নির্দিষ্ট খাবারের নাম খোঁজেন- যে খাবার খেলেই ক্যান্সার হবে না। বাস্তবে এমন কোনো একক খাবার নেই যা নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

কী কী খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে? 1

মূলত ক্যান্সারের ঝুঁকি বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ধূমপান, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, সংক্রমণ এবং খাদ্যাভ্যাসসহ বহু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসগুলোর একটি হলো বেশি পরিমাণে উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়া। শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি ও পূর্ণ শস্য নিয়মিত খাবারের অংশ হওয়া উচিত। এইসব খাবারে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান থাকে। বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা তহবিলের সুপারিশেও প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের শস্য, শাকসবজি, ফল এবং ডালজাতীয় খাবার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণ শস্য, ওটস, লাল চাল, আটার রুটি, ডাল, ছোলা, শিমজাতীয় খাবার ও বিভিন্ন সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ কোলোরেক্টাল কিংবা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।

ফলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো- ফল খাওয়া ভালো, তবে ফলের জুসকে পুরো ফলের সমান মনে করা ঠিক নয়। পুরো ফলে ফাইবার থাকে ও সাধারণত তা ধীরে খাওয়া হয়। তাই প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের ফল এবং সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

ডাল, ছোলা, মসুর, মটরশুঁটি এবং অন্যান্য লেগিউমও চমৎকার খাদ্য। এগুলো উদ্ভিদজাত প্রোটিন এবং ফাইবারের ভালো উৎস। খাবারে নিয়মিত এগুলো রাখলে লাল মাংসের ওপর নির্ভরতা কমানোও সহজ হতে পারে।

অপরদিকে প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ, বেকন, হ্যাম এবং কিছু ধরনের সংরক্ষিত মাংস যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। ক্যান্সার গবেষণায় প্রক্রিয়াজাত মাংসের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। লাল মাংসও অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।

চিনি কিংবা মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দিলেই ক্যান্সার প্রতিরোধ হবে- এমন প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের কারণে ওজন বেড়ে গেলে কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত চিনি, ফাস্টফুড, উচ্চ-ক্যালরির খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় সীমিত রাখা স্বাস্থ্যকর।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ক্যান্সার প্রতিরোধে শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান না করা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড করা ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

তাই ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য কোনো ‘সুপারফুড’ খোঁজার পরিবর্তে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনা বেশি কার্যকর। প্লেটে বেশি শাকসবজি, পর্যাপ্ত ফল, ডাল এবং পূর্ণ শস্য রাখা; প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত লাল মাংস কমানো; অতিরিক্ত ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করা ও সক্রিয় জীবনযাপন- এই সমন্বিত পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য করে না। তাই বয়স এবং ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যান্সার স্ক্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মোটেও অবহেলা করা যাবে না।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

1 টি মন্তব্য
  1. Get4Games বলেছেন

    Genel hatlarıyla faydalı bir yazı.

bn_BDBengali