দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। ব্যস্ততা, কাজের চাপ কিংবা মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে দ্রুত খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই রয়েছে।

তবে খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া হজম প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখে খাবার প্রবেশ করার পর থেকেই হজমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই শুধু কী খাচ্ছেন সেটাই নয়, কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন খাবার চিবাই, তখন দাঁত খাবারকে ছোট ছোট টুকরায় ভেঙে দেয়। এতে খাবারের কণাগুলো ছোট হয় ও লালার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। লালায় থাকা কিছু digestive enzyme খাবারের নির্দিষ্ট উপাদান ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু করে। ফলে খাবার পরবর্তী পর্যায়ে পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে হজমের জন্য তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত হয়।
ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অন্যতম সুবিধা হলো খাবারের আকার ছোট হওয়া। বড় টুকরো খাবারের তুলনায় ছোট এবং লালার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাওয়া খাবার গিলে ফেলা সহজ। এতে খাবার খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে চলতে পারে।
তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন। এর একটি কারণ হলো শরীরের ক্ষুধা এবং তৃপ্তির সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। ধীরে খেলে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়ে ও শরীরের তৃপ্তির সংকেত বুঝতে সুবিধা হতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস সহায়ক হতে পারে।
খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে খাবারের স্বাদও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। খাবারের গন্ধ, স্বাদ এবং গঠন সম্পর্কে বেশি সচেতন হওয়া যায়। এর ফলে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক হতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার- ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া মানেই সব হজমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন নয়। বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা পেট ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, খাদ্য অসহিষ্ণুতা, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, আলসার কিংবা অন্য কোনো রোগ। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য বিভ্রান্তিকর বিষয় থেকে দূরে থাকা উপকারী হতে পারে। এতে খাবারের পরিমাণ এবং খাওয়ার গতি সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হয়।
খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেলার অভ্যাস এড়াতে প্রতিটি লোকমা মুখে নিয়ে ভালোভাবে চিবানো, খাবারের মধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া ও ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে প্রতিটি লোকমা কতবার চিবাতে হবে- এমন কোনো সার্বজনীন বৈজ্ঞানিক সংখ্যা নেই। খাবারের ধরন এবং ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী চিবানোর সময় ভিন্ন হতে পারে।
খাবার ভালোভাবে চিবানো বিশেষ করে শক্ত কিংবা আঁশযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফল, সবজি এবং অন্যান্য শক্ত খাবার ভালোভাবে চিবালে তা সহজে গেলা যায় ও খাবারের গঠন ছোট হয়।
তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খাবার ধীরে, মনোযোগ দিয়ে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়াও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ। নিয়মিত এই অভ্যাস তৈরি করলে খাবার উপভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org