The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বস্তিতেই কেটেছে শৈশব: সেই মহিমা এখন মুম্বাইয়ে দুই বাড়ির মালিক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সম্প্রতি দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনা এবং জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। বর্তমানে সাফল্যের শিখরে থাকলেও তার ক্যারিয়ারের পেছনের গল্পটা ছিল চরম সংগ্রামের জীবন।

বস্তিতেই কেটেছে শৈশব: সেই মহিমা এখন মুম্বাইয়ে দুই বাড়ির মালিক 1

মহিমা জানিয়েছেন, অভিনয় কখনই তার নিজের স্বপ্নের পেশা ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলের অর্ধেক সময় ক্লাস করে, তারপর বাসে চেপে অডিশন দিতে যেতেন। চরম ক্লান্ত হয়ে ফিরলেও মা তাকে উৎসাহ দিতেন। মহিমার ভাষায়, ‘আমার মা সব সময়ই অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, তবে পারেননি। অভাবের দিনে মা আমাকে বলেছিলেন- এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজের একটা বাড়ি চান। মায়ের এই ইচ্ছাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।’

৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’র সেটে এক পরিচালক তাকে বলেছিলেন যে, ‘অভিনয়ই যদি না জানো, তবে এখানে কেনো এসেছো?’ সেই অপমানকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেন। ২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’তে মূল চরিত্রে সুযোগ পান। শো’টি সুপারহিট হওয়ার পরই মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ের জন্য নিজের প্রথম বাড়ি এবং গাড়ি কেনেন মহিমা।

টেলিভিশনে তুমুল জনপ্রিয় হলেও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া খুব সহজ ছিল না। বারবার রিজেকশন ও ‘টিভির অভিনেত্রী’ তকমা কাটিয়ে অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খানের ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।

মহিমা বলেন যে, ‘অন্তিম মুক্তির পর হঠাৎ করেই মানুষের আচরণ বদলে যায়। সকলেই আমার বন্ধু হতে চেয়েছিল। তবে এর পেছনে ছিল আমার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি।

১৪ বছর বয়সে আমার প্রথম বাড়ি কেনার ঠিক ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং আরও বড় একটি বাড়ি কিনেছেন মহিমা। তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ এবং অতিসম্প্রতি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় হিট ‘মুসাফির ক্যাফে’তে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে ২৬ বছর বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশকের সাফল্য উদযাপন করছেন তিনি।

সাফল্য ও কোটি টাকার সম্পত্তি পেলেও বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট আজও তাকে সব সময় তাড়া করে ফেরে। ‘আসলে বাবা থাকলে কেমন লাগে, তা আমি জানি না। বন্ধুদের যখন তাদের বাবার সঙ্গে দেখি, তখন বুকের ভেতরটা সত্যিই খুব খালি লাগে। তবে জীবনের সব কষ্ট জয় করে মা’কে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি, এটিই আমার বড় তৃপ্তি -আবেগঘন কণ্ঠে বলেছেন মহিমা।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali