The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহাবিশ্বে মিললো ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’!

তারার মতো দেখতে, অথচ ভেতরে বিশাল কৃষ্ণগহ্বর!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাবিশ্ব যতই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, ততই এমন সব রহস্য সামনে আসছে যা বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

মহাবিশ্বে মিললো ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’! 1

সাম্প্রতিক এমনই এক বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ বা JWST-এর পর্যবেক্ষণে এমন একটি অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত হয়েছে, যাকে গবেষকরা আপাতত ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ বা কৃষ্ণগহ্বর-তারা হিসেবে বর্ণনা করছেন।

আবিষ্কারটির সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো- বস্তুটি দেখতে অনেকটা বিশাল তারার মতো হলেও এর উজ্জ্বলতা সাধারণ কোনো তারার সঙ্গে মেলে না। গবেষকদের ধারণা, এর ভেতরে প্রায় এক লাখ সূর্যের ভরের সমান একটি কৃষ্ণগহ্বর থাকতে পারে। সেই কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে রয়েছে অত্যন্ত ঘন হাইড্রোজেনের একটি আবরণ, যা দেখতে তারার মতো একটি কাঠামো তৈরি করেছে। বস্তুটির আকার আমাদের সৌরজগতের আকারের কাছাকাছি হতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে।

আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই বস্তুটি এমন এক সময়ের, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র কয়েকশ কোটি বছরেরও অনেক কম- বিগ ব্যাংয়ের কয়েকশ মিলিয়ন বছর পরের সময়। অর্থাৎ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অত্যন্ত প্রাচীন সময়ের দিকে তাকাতে সক্ষম হয়েছেন।

এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার একটি কারণ হলো কৃষ্ণগহ্বরের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা জানেন, বিশাল ভরের নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হতে পারে। কিন্তু মহাবিশ্বের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে কীভাবে এত বড় কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয়েছিল, সেটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ ধারণাটি সেই রহস্যের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা যায়, যেখানে প্রাথমিক মহাবিশ্বের একটি বিশাল গ্যাসীয় কাঠামোর কেন্দ্রে দ্রুত একটি কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয়। এরপর সেটি চারপাশের পদার্থ শোষণ করতে করতে বড় হতে থাকে। কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে জমে থাকা অত্যন্ত ঘন গ্যাসের কারণে পুরো কাঠামোটি দূর থেকে একটি বিশাল উজ্জ্বল তারার মতো দেখা যেতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা এখনও এটিকে চূড়ান্তভাবে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ হিসেবে ঘোষণা করেননি। এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা কিংবা মডেল। আরও পর্যবেক্ষণ এবং স্পেকট্রোস্কোপিক তথ্য প্রয়োজন, যাতে বস্তুটির প্রকৃত প্রকৃতি নিশ্চিত করা যায়।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হচ্ছে মহাবিশ্বের প্রথম দিকের নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও অন্যান্য বস্তু পর্যবেক্ষণ করা। এই নতুন আবিষ্কার সেই অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- মহাবিশ্বের শৈশবে কি এমন আরও অনেক অদ্ভুত বস্তু ছিল? যদি থাকে, তাহলে প্রাথমিক মহাবিশ্বে কৃষ্ণগহ্বর ও গ্যালাক্সি তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণা হয়তো অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

অর্থাৎ, দূর মহাকাশের এই অদ্ভুত বস্তুটি শুধু একটি নতুন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়; এটি মহাবিশ্বের প্রথম যুগের রহস্য উন্মোচনের একটি সম্ভাব্য চাবিকাঠি হতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali