দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সমুদ্রের গভীরে বহু শতাব্দী ধরে লুকিয়ে থাকা একটি প্রাচীন জাহাজের ধ্বংসাবশেষ সম্প্রতি আবিষ্কারের পর ইতালিতে প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সিসিলির পশ্চিম উপকূলে মাজারা দেল ভাল্লোর কাছাকাছি সমুদ্রের তলদেশে পাওয়া গেছে প্রায় ২ হাজার ১০০ বছরের পুরোনো একটি রোমান জাহাজের ধ্বংসাবশেষ।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য আবিষ্কারটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো- জাহাজটির সঙ্গে প্রায় ৫০০টি অ্যাম্ফোরা, অর্থাৎ প্রাচীন মাটির তৈরি বড় পাত্র পাওয়া গেছে। এসব পাত্র সাধারণত প্রাচীনকালে মদ, জলপাই তেল, শস্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হতো। জাহাজটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৬ মিটার গভীরে অবস্থান করছে।
জাহাজটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২১ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৬ মিটার বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে। পানির নিচে দীর্ঘ দুই হাজার বছরের বেশি সময় থাকার পরও এত বিপুল সংখ্যক পাত্র তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় পাওয়া যাওয়াকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
এই আবিষ্কার আরও একটি কারণে চমকপ্রদ। স্থানীয় জেলেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটি পরীক্ষা করেন। এরপর ডুবুরি এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুসন্ধানে ধ্বংসাবশেষটি শনাক্ত হয়। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের পর্যবেক্ষণও এই আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পাত্রগুলোর বেশিরভাগই Dressel 1A ধরনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ধরনের অ্যাম্ফোরা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে প্রথম শতাব্দীর মধ্যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। কিছু পাত্রের উৎপত্তি উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলেও গবেষকেরা ধারণা করছেন।
এ থেকে বোঝা যায়, সে সময় ভূমধ্যসাগরে পণ্য পরিবহন কতটা বিস্তৃত ছিল। সিসিলি ছিল ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ পণ্য থাকার অর্থ হলো, সমুদ্রপথে দীর্ঘ দূরত্বের বাণিজ্য তখন যথেষ্ট সংগঠিত ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এখন জাহাজটির আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করবেন। বিশেষ করে জাহাজটির কাঠের কাঠামো অ্যাম্ফোরাগুলোর নিচে সংরক্ষিত আছে কি না, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঠের অংশ পাওয়া গেলে প্রাচীন রোমান জাহাজ নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া পাত্রগুলোর রাসায়নিক এবং মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণ করে এগুলোতে কী ধরনের পণ্য ছিল, সেগুলোর উৎপত্তি কোথায় এবং জাহাজটি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিল- এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।
ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি এই আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পানির নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ভূমধ্যসাগরে ডুবে গিয়েছিল। আজ তার ধ্বংসাবশেষ বিজ্ঞানীদের সামনে প্রাচীন পৃথিবীর অর্থনীতি, বাণিজ্য, সমুদ্রযাত্রা এবং মানুষের জীবনযাত্রার একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। তাই এই আবিষ্কার শুধু একটি পুরোনো জাহাজ খুঁজে পাওয়ার ঘটনা নয়- এটি হারিয়ে যাওয়া এক বাণিজ্যিক বিশ্বের গল্পও সামনে নিয়ে এলো।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org