The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৫৬৭ মিলিয়ন বছর আগের প্রাণীর জীবাশ্ম!

প্রাণীদের বিবর্তনের ইতিহাস আরও পেছনে চলে গেলো

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস যতটা পুরোনো বলে আমরা জানি, নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কার তার থেকেও পুরোনো এক জটিল জগতেরই সন্ধান দিচ্ছে।

৫৬৭ মিলিয়ন বছর আগের প্রাণীর জীবাশ্ম! 1

কানাডায় বিজ্ঞানীরা এমন একটি অসাধারণ জীবাশ্ম-ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে প্রায় ৫৬৭ মিলিয়ন বছর আগের প্রাণীর চিহ্ন রয়েছে। এই আবিষ্কার প্রাণীদের বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপকে প্রায় এক কোটি বছর পর্যন্ত পেছনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এইসব প্রাচীন জীবের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, যা চলাফেরা, প্রজনন ও নির্দিষ্ট দেহগঠনের মতো জটিল বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ প্রাণীজগতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়তো পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক আগে শুরু হয়েছিল।

এই সময়কালকে জীবনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ তখন পৃথিবীর প্রাণীজগৎ বর্তমানের মতো বৈচিত্র্যময় ছিল না। ডাইনোসর তো দূরের কথা, আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি বা অধিকাংশ পরিচিত প্রাণীর অস্তিত্বই তখন ছিল না।

তবু এই সময়ের জীবাশ্ম দেখাচ্ছে, সমুদ্রের পরিবেশে এমন কিছু প্রাণী বা প্রাণীসদৃশ জীব ছিল, যারা নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে জটিলভাবে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিল।

আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, গবেষকরা মনে করছেন এই প্রাণীদের একটি অংশ গভীর সমুদ্রের পরিবেশে বাস করতে পারে। এর অর্থ হলো, প্রাণীদের বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুধু অগভীর সমুদ্র কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটেনি; গভীর সমুদ্রও হয়তো প্রাথমিক প্রাণীজগতের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

জীবাশ্মবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- প্রাচীন প্রাণীর দেহের নরম অংশ সাধারণত সহজে জীবাশ্মে পরিণত হয় না। যে কারণে কয়েকশ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে কী ধরনের প্রাণী ছিল, তার সম্পূর্ণ ছবি পাওয়া কঠিন। শক্ত খোলস, হাড় কিংবা দাঁতযুক্ত প্রাণীর জীবাশ্ম তুলনামূলকভাবে সহজে পাওয়া গেলেও নরম দেহের প্রাণীর চিহ্ন অনেক কম।

এই কারণেই নতুন জীবাশ্ম-ভাণ্ডারটি এতো গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিজ্ঞানীদের এমন এক সময়ের প্রাণীজগত সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে, যে সময়ের জীবাশ্ম রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত।

এই আবিষ্কার বিবর্তনের একটি মৌলিক প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত- জটিল প্রাণীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো ঠিক কখন বিকশিত হয়েছিল?

গবেষকরা যদি এই জীবাশ্মগুলো থেকে প্রাণীদের দেহগঠন, চলাচলের পদ্ধতি এবং জীবনযাপনের পরিবেশ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য বের করতে পারেন, তাহলে প্রাণীজগতের প্রাথমিক বিবর্তনের একটি নতুন টাইমলাইন তৈরি হতে পারে।

এটি শুধু কয়েকটি পুরোনো পাথর বা জীবাশ্মের আবিষ্কার নয়। প্রায় ৫৬৭ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সমুদ্র কেমন ছিল, সেখানে কী ধরনের প্রাণী বাস করত এবং আধুনিক প্রাণীজগতের ভিত্তি কীভাবে তৈরি হয়েছিল- এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থাৎ, পৃথিবীর প্রাণের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা যতোই জানছি, ততোই বোঝা যাচ্ছে যে, বিবর্তনের গল্প আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘ, জটিল ও বিস্ময়করও বটে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali