The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সমুদ্রের গভীরে একসঙ্গে ২৪ নতুন প্রজাতি!

জীবনের একেবারে নতুন শাখার সন্ধান!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর স্থলভাগের বড় অংশ সম্পর্কে মানুষ মোটামুটি ধারণা তৈরি করলেও সমুদ্রের গভীর অংশ এখনো অনেকটাই অজানা। সেই অজানা জগত থেকেই বারবার উঠে আসছে নতুন প্রাণের সন্ধান।

সমুদ্রের গভীরে একসঙ্গে ২৪ নতুন প্রজাতি! 1

সাম্প্রতিক এক গভীর সমুদ্র অভিযানে বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের Clarion-Clipperton Zone এলাকায় একসঙ্গে ২৪টি নতুন অ্যাম্ফিপড প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। যার মধ্যে এমন একটি বিরল দল রয়েছে, যা জীবনের শ্রেণিবিন্যাসে সম্পূর্ণ নতুন একটি সুপারফ্যামিলির প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

অ্যাম্ফিপড হলো ছোট আকারের জলজ ক্রাস্টেশিয়ান কিংবা খোলসযুক্ত প্রাণী। এদের অনেক প্রজাতিকে সাধারণভাবে ছোট চিংড়ির মতো দেখতে মনে হতে পারে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের পরিবেশে বসবাসকারী অ্যাম্ফিপডগুলোর বৈচিত্র্য এবং অভিযোজন ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

Clarion-Clipperton Zone প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বিশাল গভীর সমুদ্র অঞ্চল। এখানে সমুদ্রের তলদেশে বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও ধাতব সম্পদের উপস্থিতি রয়েছে। যে কারণে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রের খনিজ আহরণ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আগ্রহ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন যে, এই অঞ্চল জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ২৪ প্রজাতির আবিষ্কার সেই গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, গভীর সমুদ্রের তলদেশে এমন প্রাণী রয়েছে যাদের সম্পর্কে আগে বিজ্ঞানীদের কোনো ধারণাই ছিল না। যারমধ্যে নতুন সুপারফ্যামিলির সন্ধান আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি জীবনের বিবর্তনীয় সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।

এই গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গবেষকেরা উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ও জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নমুনাগুলো পরীক্ষা করেছেন। শুধু দেখতে একই রকম প্রাণীকে পৃথক প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা না করে তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা যতো গভীরে যাচ্ছেন, ততোই নতুন প্রাণীর সন্ধান পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের আরেকটি গভীর সমুদ্র অভিযানে মাত্র দুই সপ্তাহের অনুসন্ধানে ৩১টি নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের খবরও প্রকাশিত হয়।

এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশ এখনও মানুষের অজানা। স্থলভাগে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের তুলনায় গভীর সমুদ্রের অনুসন্ধান অনেক কঠিন। সেখানে প্রচণ্ড চাপ, অন্ধকার, অত্যন্ত কম তাপমাত্রা ও কঠিন পরিবেশের কারণে গবেষণা পরিচালনা করা ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

তবে এই নতুন আবিষ্কারগুলো শুধু জীববিজ্ঞানের জন্য নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গভীর সমুদ্রের কোনো এলাকায় খনিজ আহরণ শুরু করার আগে সেখানে কী ধরনের প্রাণী বাস করে, তাদের পরিবেশগত ভূমিকা কী ও সেই বাস্তুতন্ত্র কতটা সংবেদনশীল- এইসব জানা প্রয়োজন।

আজ যে প্রাণীটির অস্তিত্ব বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করছেন, সেটি হয়তো কয়েক দশক আগেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অজানা রহস্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল। যে কারণে সমুদ্রের গভীরতা এখনও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষ পৃথিবী সম্পর্কে অনেক কিছু জানলেও আমাদের গ্রহের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি এখনও পানির নিচে লুকিয়ে রয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali