The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সাড়ে তিন হাজার বছর আগের কঙ্কালে মিললো রোগের রহস্য!

সিফিলিসের ইতিহাস নিয়ে বদলে যাচ্ছে ধারণা!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের ইতিহাস শুধু রাজা-বাদশাহ, যুদ্ধ কিংবা সভ্যতার উত্থান-পতনের ইতিহাস নয়; রোগবালাইও মানবসভ্যতার গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু কোনো রোগ ঠিক কখন ও কীভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সবসময় সহজে জানা যায় না।

সাড়ে তিন হাজার বছর আগের কঙ্কালে মিললো রোগের রহস্য! 1

এবার ভিয়েতনামে পাওয়া প্রায় ৩৫০০ বছর পুরোনো মানুষের কঙ্কাল গবেষকদের সামনে এমন এক রহস্য হাজির করেছে, যা সিফিলিস এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগগুলোর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ভিয়েতনামের প্রাচীন মানবদেহাবশেষ পরীক্ষা করা হয়। এইসব কঙ্কালে এমন হাড়ের পরিবর্তন দেখা গেছে, যা ট্রেপোনেমাল রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ট্রেপোনেমাল রোগের একটি পরিচিত উদাহরণ হলো সিফিলিস; তবে এর কাছাকাছি আরও কিছু রোগ রয়েছে, যেমন yaws ও bejel। গবেষণাটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে- আজকের পরিচিত সিফিলিস বা তার ঘনিষ্ঠ রোগগুলো কি হাজার হাজার বছর আগেও মানুষের মধ্যে ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন কঙ্কালের হাড়ে রোগের চিহ্ন খুঁজেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সিফিলিসের ইতিহাস নিয়ে একটি বিতর্ক রয়েছে। একটি ধারণা হচ্ছে, ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের আমেরিকা থেকে ফেরার পর ১৫শ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে সিফিলিস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আবার অন্য গবেষকরা মনে করেন, রোগটির পূর্বপুরুষ কিংবা কাছাকাছি ট্রেপোনেমাল সংক্রমণ মানুষের মধ্যে তারও বহু আগে ছিল।

ভিয়েতনামের এই কঙ্কালগুলো দ্বিতীয় ধারণার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিতে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন-কঙ্কালের হাড়ে রোগের চিহ্ন পাওয়া গেলেই সেটিকে আধুনিক যৌনবাহিত সিফিলিস বলে নিশ্চিত করা যায় না। কারণ বিভিন্ন ট্রেপোনেমাল রোগের কারণে হাড়ে কাছাকাছি ধরনের পরিবর্তনও হতে পারে।

তবুও এই আবিষ্কারের আরেকটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা এমন প্রমাণ পেয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে, এই রোগগুলোর কিছু রূপ মা থেকে সন্তানের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ প্রাচীন সমাজে সংক্রমণের বিস্তার শুধু যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেই নয়, পারিবারিক কিংবা মাতৃ-শিশু সংক্রমণের মাধ্যমেও হতে পারে।

এতে প্রাচীন মানুষের স্বাস্থ্য এবং সামাজিক জীবন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মানুষ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে বসবাস করত, কীভাবে রোগ ছড়াত ও একটি জনগোষ্ঠীর ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণ কীভাবে টিকে থাকত- এইসব বিষয়ে গবেষকদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

প্রাচীন রোগ নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তখনকার মানুষের শরীরের নরম টিস্যু সাধারণত সংরক্ষিত থাকে না। যে কারণে কঙ্কালই অনেক সময় রোগের ইতিহাস জানার প্রধান সূত্র। হাড়ে ক্ষত, ক্ষয় বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মতো পরিবর্তন দেখে গবেষকরা রোগের সম্ভাব্য উপস্থিতি অনুমান করেন।

এই গবেষণার ফলাফল তাই শুধু সিফিলিসের ইতিহাসের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি দেখাচ্ছে, মানুষের সঙ্গে সংক্রামক রোগের সম্পর্ক সম্ভবত আমাদের ধারণার চেয়েও অনেকটা পুরোনো।

তবে গবেষকদের আরও জেনেটিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রাচীন ডিএনএ পাওয়া গেলে রোগটির প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি একই সময়ের অন্যান্য অঞ্চলের কঙ্কাল পরীক্ষা করা জরুরি।

সাড়ে তিন হাজার বছর আগের একটি কঙ্কাল আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে—মানবসভ্যতার সঙ্গে কিছু রোগ কি শুরু থেকেই ছিল? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে রোগের ইতিহাস আসলে মানব ইতিহাসেরই আরেকটি দীর্ঘ এবং বিস্ময়কর অধ্যায়ও।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali