প্রাক বাজেট সংবাদ ঃ রিকন্ডিশন্ড মোটর গাড়ির দাম কমছে

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ বাজেট আসছে। আর বাজেটের সঙ্গে সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়া বা কমা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। তবে বাজেটে বেশির ভাগ জিনিসের দাম বাড়ার সম্ভাবনায় থাকে সব সময়। এবার বাজেটের আগে পুরনো ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কমবে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় নিম্নমানের নতুন গাড়ির আগ্রাসন আর থাকছে না। আগামী অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কমবে। এজন্য পুরনো ও নতুন গাড়ির শুল্ক বৈষম্য দূর করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী। এতে বছরভিত্তিক সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ নতুন অবচয় সুবিধা থাকবে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, নতুন ও পুরনো গাড়ির বৈষম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় আনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ সম্পর্কিত শুল্কায়ন মূল্যসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর জাপান সরকারও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। জাপান সরকারের বাণিজ্য বিষয়ক দফতর জেটরো সরকারের পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে পত্র দেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এনবিআর চেয়ারম্যানকে পত্র দিয়ে শুল্কায়ন মূল্য বৈষম্য নিরসনের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক প্রতিবেদনেও নতুন ও পুরনো গাড়ির শুল্ক বৈষম্যের কারণে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমে গিয়ে ভারতীয় গাড়ি আমদানি ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুরনো ও নতুন আমদানি করা গাড়ির শুল্ক নির্ধারণে বৈষম্য দূর করতে বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে গাড়ির বয়স ১ বছর অপেক্ষা কম শূন্য শতাংশ, ১ বছর থেকে বেশি কিন্তু ২ বছর থেকে কম ১০ শতাংশ, ২ বছর থেকে বেশি কিন্তু ৩ বছর থেকে কম ১৫ শতাংশ, ৩ বছর থেকে বেশি কিন্তু ৪ বছর থেকে কম ২৫ শতাংশ এবং ৪ বছর থেকে বেশি কিন্তু ৫ বছর থেকে কম ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বয়স নির্বিশেষে আমদানিযোগ্য সব পুনঃব্যবহূত গাড়ি একই অবচয় সুবিধা অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ পাচ্ছে। এতে এক বছরের পুরনো এবং ৫ বছরের পুরনো গাড়ি একই অবচয় সুবিধা পাচ্ছে। এরফলে উভয় ধরনের গাড়িকে সমপরিমাণ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা বিনিময় মূল্য ও সমতার পরিপন্থী। এতে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রতিবেশী ভারত থেকে গাড়ি আমদানিকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যেই এ সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।

এনবিআর সূত্র আরও জানিয়েছে, ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এ বৈষম্য দূর করতে সুপারিশ করেছে। এনবিআরের চেয়ারম্যানকে লেখা পত্রে ১৪ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইআইটি) জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং সুপারিশসহ নতুন ও পুরনো গাড়ির শুল্কায়ন পদ্ধতি যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে এনবিআরে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, ‘ব্যবহূত, পুরনো বা রিকন্ডিশন্ড মোটরগাড়ি ও যানবাহন জাপান হতে আমদানি করা হলে ইয়েলো বুকে বছরভিত্তিক পুরনো মূল্য এবং জাপান ছাড়া অন্য কোন দেশ থেকে আমদানি করা হলে হালনাগাদ গ্লাস গাইড, অটোমোবাইল ম্যাগাজিন বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত এই ধরনের কোন জার্নালে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট পুরনো গাড়ির হালনাগাদ মূল্য এবং ঘোষিত মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি তা শুল্কায়ন মূল্য হিসেবে গ্রহণ করা অথবা নতুন গাড়ির জন্য ম্যানুফেকচারার্স প্রাইস সার্টিফিকেট বা ইনভয়েস মূল্যের মধ্যে যে মূল্য বেশি তাকেই নতুন গাড়ির শুল্ক হিসেবে ধার্য করা যেতে পারে। পুরনো গাড়ির শুল্কমূল্য সমমডেলের নতুন গাড়ির মূল্য থেকে অবচয় প্রদান করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।’

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদন, ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বিবেচনায় এনে আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন নীতিমালা কার্যকর করা হবে। এনবিআর এই বিষয়ে নীতিগত সম্মত হলেও কিছু সংশোধনসাপেক্ষে তা কার্যকর করা হবে। এখন পর্যন্ত যে অবচয় সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে শেষ পর্যায়ে তা আরও সংশোধনও হতে পারে। তবে বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশই থাকছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়ার পর তা চূড়ান্ত করা হবে।

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়, ৮ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ওয়াহিদা আক্তার স্বাক্ষরিত এক গোপন পত্র পাঠানো হয় অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন ও এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমদের কাছে। এতে একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বলা হয়, গোপনীয় প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে সরকারের ভাবমূর্তি কোনভাবে যাতে ক্ষুণ্ন না হয় এ লক্ষ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিতের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।

বর্তমানে নতুন ও পুরনো গাড়ির ‘শুল্কায়ন মূল্য’ নির্ধারণে এনবিআরের দুটি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। এসআরও নং ২৯৮ অনুযায়ী নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্য গ্রহণের বিধান রয়েছে। অপরদিকে এসআরও নং ১৬৭ অনুযায়ী পুরনো মোটরযান জাপান থেকে আমদানির ক্ষেত্রে জাপানে প্রকাশিত ইয়েলো বুকে বছরওয়ারি বর্তমান বাজার মূল্যের পরিবর্তে নতুন গাড়ির মূল্য ধরে কেবল ১ থেকে ৩ বছর বয়সসীমা নির্বিশেষে ৩৫ শতাংশ অবচয় ধরে ‘সর্বনিম্ন মূল্য’ নির্ধারণ করে শুল্কায়ন করা হয়। এ কারণে এক থেকে ৫ বছরের পুরনো মোটরযানের একই শুল্ককর দাঁড়াচ্ছে। আমদানিনীতি আদেশে ৫ বছরের পুরনো মোটরযান আমদানির বিধান থাকলেও ৪ ও ৫ বছরের পুরনো মোটরগাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণে এনবিআরের কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ঘোষিত মূল্যে নতুন গাড়ি মূল্যায়ন করার কারণে সমমানের বা সমমডেলের পুরনো গাড়ির শুল্ক-কর অনেক বেশি হচ্ছে।

এখন বাকিটা বোঝা যাবে বাজেটে সরকারি প্রকৃত সিদ্ধান্তের পর। তবে জনগণও চাই জাপানি পুরনো ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি শুল্ক কমিয়ে জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...