পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এক বছরে অপহরণ হয়েছে ৬৩৩ জন

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ সামপ্রতিক সময়ের নিখোঁজ বা অপহরণের ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ মহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ আজ শঙ্কিত। গত এক বছরে অপহরণের সংখ্যা জানতে চাইলে সংসদে বলা হয়েছে অপহরণের মামলা বা জিডি হয়েছে ৬৩৩ জনের।

জানা গেছে, গুপ্তহত্যা ও অপহরণ নিয়ে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন এড়িয়ে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। গত এক বছরে কতটি গুপ্তহত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি শুধু অপহরণের মামলার সংখ্যা জানিয়েছেন। ৩১ মে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির হোসেন মকবুল শাহরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, গত এক বছরে (এপ্রিল-২০১২ পর্যন্ত) দেশে কতটি গুপ্তহত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সফলতা-ব্যর্থতার বিবরণ জানতে চান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, গত এক বছরে দেশে অপহরণের ঘটনায় ৬৩৩টি মামলা রুজু হয়েছে। কোন ব্যক্তি অপহূত বা নিখোঁজ হলে, খুন কিংবা অজ্ঞাত কোন লাশ উদ্ধার হবার সংবাদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জিডিভুক্ত করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, রুজুকৃত মামলা ও জিডিগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে ৪৯৬ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতা ও সফলতার সহিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছিলেন, দেশে গুম বলে কিছু নেই। তবে এর এক সপ্তাহ পরেই আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন গুম ও গুপ্তহত্যা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাছিমুল আলম চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, ফায়ার স্টেশনে আধুনিক সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যে ১৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার একটি নতুন প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে সরকারের বিদ্যমান আইন সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রাফিক অ্যাক্ট-২০১১ এর চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে পুলিশ ফাঁড়ির সংখ্যা ৪৫২টি। বজলুল হক হারুনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জনবল এক হাজার ২৮৩ থেকে এক হাজার ৭২২ জনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাবে যদি ৬৩৩ জন নিখোঁজ হয়ে থাকেন তাহলে বাস্তবে আরও কত ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় তার কোন হিসাব নেই। তাছাড়া কিছু ঘটনা অন্য কারণে যেমন রাজনৈতিক কারণেও অন্যদিকে মোড় নেয়। তবে আজকাল ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কারণে দেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া সব রকমের অপরাধ বিষয়ক সংবাদ খুব সহজেই চলে আসে। যে কারণে আগের মতো ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে ৬৩৩ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও আমাদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগজনক। তাই বিষয়গুলোর দিকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে।

Advertisements
Loading...