ব্যানানা স্পাইডার, পয়জন ডার্ট ফ্রগসহ কয়েকটি বিশেষ কীট পতঙ্গ সম্পর্কে জানুন

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। ব্যানানা স্পাইডার, পয়জন ডার্ট ফ্রগসহ কয়েকটি বিশেষ কীট পতঙ্গ সম্পর্কে জানুন।


ব্যানানা স্পাইডার (Banana spider)

Brazilian wandering spider (Phoneutria) বা Banana spider ২০১২ সালে সবচেয়ে বিষাক্ত মাকড়সা হিসাবে গিনেস বুকে নাম লেখায়। প্রতি বছরই এই মাকড়সার কামড়ে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারায়। এটি প্রায় ১৩ হতে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদেরকে wandering spider বলা হয় কারণ, এরা অন্যান্য মাকড়সার মতো জাল তৈরি করে না। এরা পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ি, পাথর বা কলাগাছে লুকিয়ে থাকে। জনবসতিপূর্র্ণ এলাকায় দিনের বেলায় বাড়ি, জামা-কাপড়, জুতা এমনকি গাড়ির ভিতরেও লুকিয়ে থাকে। এই মাকড়সার কামড়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণাসহ priapism, widespread tissue necrosis প্রভৃতি হতে পারে। আর সময় মতো চিকিৎসা না করাতে পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঘটে। উলভেরিন Wolverine উলভেরিনের অনেক প্রজাতি আছে। ছবির এই প্রজাতির উলভেরিনকে বলা হয় ‘গুলো গুলো’ (gulo gulo)। এটি দেখতে খুব সুন্দর নিরীহ একটা ছোটখাটো ভালুকের মতো, দেখলেই আদর করতে ইচ্ছা করে। শিকারি হিসেবে এদের বেশ সুনাম আছে। শক্তিশালী বাহু এবং ধারালো নখের সাহায্যে নিজের চাইতেও বড় আকারের প্রাণীকে ঘায়েল করে ফেলে।

পয়জন ডার্ট ফ্রগ (Poison Dart Frog)

দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটি আমাদের দেশের কুনোব্যাঙ বা সোনাব্যাঙ নয়। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় বেশি দেখা যায়। একে পয়জন অ্যারো ফ্রগও (poison arrow frog) বলা হয়। এটি Dendrobatidae পরিবারের সদস্য। এই প্রজাতির ব্যাঙেরা বেশির ভাগই দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে। এরা বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে। এদের চামড়ায় লিপোথিলিক আলকালোইড (lipophilic alkaloid) থাকে। এটা তেমন মারাত্মক নয় যদি না আপনি বা আপনার বাড়ির পোষা প্রাণীটি এর সাঁতরানো পানি পান না করেন।

ডিঙ্গো (Canis lupus dingo)

এই যে এখানে নাদুশনুদুশ ডিঙ্গো সাহেবদের বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সারাদিন খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা আর ঘুম ছাড়া আর কোন কাজ নেই। এদেরকে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া যায়। বাংলায় যাকে বলা হয় বন্যকুকুর। এরা নেকড়ে বাঘের উত্তরসূরি। প্রচণ্ড হিংস্র। এরা দল বেঁধে শিকার করে।

জায়ান্ট কিং স্কুইড (Giant King Squid)

জায়ান্ট কিং স্কুইড- এরা স্কুইডরাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রজাতি। এর চোখ অনেকটা মানুষের চেখের মতো। এটির মোট দশটি বিশাল আকারের বাহু আছে। একটি পূর্ণবয়স্ক স্কুইড দৈর্ঘে প্রায় ৬৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জায়ান্ট কিং স্কুইডের আচরণ নিয়ে মানুষ সব সময়েই দ্বিধান্বিত। অনেকের মতে, বিপদের আভাস না পেলে এরা মানুষকে আক্রমণ করে না। ২৫শে মার্চ ১৯৪১ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ব্রিটিশ জাহাজ ডুবির পর দশজন নাবিক একটা নৌকায় উঠতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই একটি জায়ান্ট কিং স্কুইড তাদের আক্রমণ করে। সৌভাগ্যক্রমে মাত্র দু’টি জীব হারিয়ে আটজন নাবিক অনেক কষ্টে বেঁচে ফিরেছিলেন।

ব্লু- রিংড অক্টোপাস (Blue Ringed Octopus)

ব্ল- রিংড অক্টোপাস খুব ছোট- মাত্র ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি এবং দেখতেও চমৎকার। এর সারা শরীরে উজ্জ্বল নীলাভ ফ্লোরসেন্ট বাতির মতো রিং থাকে। এটি বিপদ দেখলে খুব দ্রুত রঙ পরিবর্তন করে নীলাভ রিংসহ উজ্জ্বল হলুদ বর্ণে পরিণত হয়। এটি এতই সুন্দর যে, মনে হয় ধরে নিয়ে গিয়ে বাড়ির অ্যাকুরিয়ামে রেখে দিই। কিন্তু সমস্যা হল এর বিষ আপনাকে বিনা পয়সায় পরলোক যাত্রার ব্যবস্থা করে দেবে, যার কোন প্রতিষেধক এখনও পর্যন্ত নেই।

Advertisements
Loading...