ধর্ষণ নিয়ে সমগ্র বিশ্বে তোলপাড় ॥ ধর্ষককে রাসায়নিক খোঁজাকরণের (পুর”ষত্বহীন) সাজা!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ধর্ষণ নিয়ে সমগ্র বিশ্বে আজ তোলপাড় শুর” হয়েছে। একটি ঐতিহাসিক রায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত সমপ্রতি একজন ৩১ বছর বয়স্ক যৌন নিপীড়নকারীকে ১৫ বছরের জেল ও দেশটিতে প্রথমবারের মতো তাকে রাসায়নিক খোঁজাকরণের (পুর”ষত্বহীন) সাজা দিয়েছে।
ধর্ষক
সামপ্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের ঘটনা এতো মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। ৫ বছরের শিশুও ওইসব পৈশাচিকের হাত থেকে রেহায় পা”েছ না। স্মরণকালের ঘটনা সমপ্রতি ঘটে গেলো ভারতে। মেডিক্যাল ছাত্রী জ্যোতিকে গণধর্ষণ ও পরে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এখন মানুষ আবারও নতুন করে ভাবতে হ”েছ কিভাবে এই ধর্ষণ রোধ করা যায় এবং কিভাবে ওইসব পৈশাচিকদের আইনের আওতায় এনে

২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া দোষী সাব্যস- হওয়া শিশু যৌন নিপীড়নকারীদের, যাদের এ ধরনের অপরাধ পুনরায় করার সম্ভাবনা আছে তাদের জন্যে হরমোন চিকিৎসা বা রাসায়নিক খোঁজাকরণ অনুমোদন করে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যার নামের প্রথমাংশ পিও, তাদের বির”দ্ধে ৫ জন টিনএজারের সঙ্গে সেক্স করার অভিযোগ রয়েছে। সে তাদের সঙ্গে নভেম্বর ২০১১ থেকে মে ২০১২ পর্যন- ৬ বার স্মার্টফোন চ্যাট সার্ভিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার ইওনহাপ সংবাদ সংস’া জানিয়েছে। পিও তাদের নগ্ন ছবি ও যৌনকর্মের ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে সম্প্রচারের হুমকি দেয় এবং সে তাদের মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণও করেন।

সিউলের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক কিম কি-ইয়ং তার রায়ে বলেন, ‘আদালত মনে করে যে, তার মধ্যে বিকৃত যৌন সচেতনতা ও অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ফলে তার পক্ষে নিজের যৌন প্ররোচনা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।’ আদালত পিওর কুকর্মের তথ্য ১০ বছর ধরে জনগণের কাছে উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেয়। তাকে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০ বছর পর্যন- একটি বৈদ্যুতিক পর্যবেক্ষণে সক্ষম বেড়ি পরারও নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত আরও জানায়, পিওকে তার অস্বাভাবিক যৌন প্ররোচনা দমনে চিকিৎসার জন্যে ২০০ ঘণ্টার একটি থেরাপি নিতে হবে। আদালত রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরলতম অপরাধের সাজা হিসেবে রাসায়ানিক ইনজেকশন প্রয়োগ করে দোষী সাব্যস- ওই অপরাধীকে বাকি জীবনের মতো অকেজো ও নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে।

এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াই প্রথম যারা এ ধরনের চিকিৎসা অবলম্বন করলো যদিও জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য কয়েক বছর ধরে তা ব্যবহার করে আসছে। ইতিমধ্যে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিওকে জেল থেকে বের হওয়ার ২ মাসের মধ্যে তার যৌন প্রেরণা, বাধ্যতামূলক যৌন আকাঙ্ক্ষা ও কামোত্তেজনা কমানের জন্যে প্রথমবারের মতো চিকিৎসা দেওয়া হবে। সিউলের আদালতের রায়টি এমন সময় এলো যখন ভারতের দিল্লিতে ২৩ বছরের তর”ণীর গণধর্ষণের পর সেখানে বিতর্ক চলছে যে নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে সেখানে রাসায়নিক খোঁজাকরণের মতো শাসি- চালু করা হবে কি-না।
ধর্ষক-2
ধর্ষণ র”খতে ভারত সরকারের নতুন ভাবনা

ভারত সরকার আরও বেশি মহিলা পুলিশ নিয়োগ করার কথা ভাবছে। মহিলাদের ওপরে অপরাধ র”খতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মন-ব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে। বিবিসি

দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে মহিলা নির্যাতন রোধে কি করণীয়, তা নিয়ে সব রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে সমপ্রতি এক আলোচনা শেষে তিনি এ মন-ব্য করেন।

ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই কথা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্করা যদি মহিলা নির্যাতনে জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে কীভাবে বিচার হবে, তা নিয়েও মহিলাদের ওপরে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, সেক্ষেত্রে কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন’ তিনি-ই দুইদুই বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তর”ণীর ওপরে সবচেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। নির্যাতিতা ওই তর”ণীর ওপরে পাশবিক অত্যাচার চালালেও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে তার আলাদা বিচার হবে এবং তিনি সর্বো”চ তিন বছরের সাজা পেতে পারেন। এই তথ্য সামনে আসার পরেই কয়েকটি মহল থেকে বলা হয়েছে যে, ওই ব্যক্তিকে কঠোর সাজা দিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়সসীমা কমিয়ে ১৬ করা হোক।

শিন্ডে বলেন, নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব। মহিলারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।এজন্য কঠোরতর আইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনগুলিও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় না অনেক ক্ষেত্রেই আরও বেশি মহিলা পুলিশ নিয়োগ করার কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের কাছ থেকে ধর্ষণসহ মহিলাদের ওপরে নির্যাতন র”খতে কঠোর আইন তৈরির ব্যাপারে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। কয়েকটি রাজ্য উপদেশ দিয়েছে অতিবিরল ক্ষেত্রে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া যেতে পারে। ধর্ষণ রোধে কড়া আইন তৈরির জন্য ভারত সরকার এক প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে যে কমিশন তৈরি করেছে, তারা একমাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। ওই বৈঠক থেকে উঠে আসা মতামতগুলি ওই কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...