The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আধুনিক এয়ারশিপঃ উড়বে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায়

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ অনেক আগে এমন কিছু আকাশযান তৈরি করা হয়েছিল যেগুলো বিশাল বড় বেলুনের মত আকাশে চলাচল করত। বাতাসের চেয়ে হাল্কা বলে এগুলোকে এয়ারশিপ বলে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এয়ারশিপ বিলুপ্তপ্রায়। তবে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য আবারও এয়ারশিপ আলোচনায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল প্রকৌশলী আরো উন্নত মানের এয়ারশিপের নকশা করেছেন।


493361-airship

নকশা অনুযায়ী এই এয়ারশিপ ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। যা সাধারণ জেট বিমানের দ্বিগুণ উচ্চতা। মূলত এটি বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্থরে চলাচল করবে। ভূমি থেকে এটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এই আকাশযানগুলোতে সাধারনত হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শক্তিশালী এয়ারশিপ তৈরিতে মূল বাধা, বেলুনে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাস দিনের বেলা উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়। আর রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে গ্যাসটি সংকুচিত হয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রকৌশলী স্টিভ স্মিথ বলেন, এয়ারশিপ তৈরির একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এতে ব্যবহৃত গ্যাসীয় উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করা। রাতে বিধ্বস্ত হওয়া এড়াতে এয়ারশিপের ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকা চাই। আবার একই সঙ্গে এতে শক্তিশালী কিছু উপাদান থাকতে হবে, যাতে দিনের বেলা বিস্ফোরিত না হয়। আর যানটির আকৃতিও হতে হবে হালকা বায়ুতে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

8282_3110752534_14

তাই বিজ্ঞানীরা গ্যাসের পরিবর্তে বিদ্যুতশক্তি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে। এতে করে গ্যাস ব্যবহারের অসুবিধা অনেকাংশে দূর হবে। নিচে থেকে নিয়ন্ত্রন করাও অনেক সহজ হয়ে যাবে। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী বার্থ নেটারফিল্ড বলেন, বিদ্যুৎ-চালিত এয়ারশিপ যখন ইচ্ছা নামিয়ে আনার সুযোগ থাকবে। তবে কার্যকর এয়ারশিপ চালু করার পথে এখনো অনেক গবেষণা বাকি রয়েছে।

এয়ারশিপে বহন করা যাবে শক্তিশালী দূরবীক্ষণযন্ত্র। যা দিয়ে দূর ছায়াপথ থেকে শুরু করে মহাসাগরের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যাবে। গ্যাসভিত্তিক এয়ারশিপের ক্ষেত্রে অনেক অনিশ্চয়তা কাজ করতো। আগের এয়ারশিপের চলন্ত অবস্থায় বিধ্বস্ত হওয়ার অনেক নজির রয়েছে। তাই এ রকম যানের ওপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা ব্যয়বহুল গবেষণাকাজ পরিচালনার উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যেতেন। তবে আধুনিক এয়ারশিপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে গবেষণাকাজ চালাতে পারবেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী সারাহ মিলার বলেন, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে চলাচলের উপযোগী এই এয়ারশিপ বিপুল ব্যয়ে মহাশূন্যে না গিয়েও মহাশূন্যের কাছাকাছি পরিবেশ তৈরি করে প্রায় সে রকম অবস্থার বিবরণ দিতে পারবে!

HAV_01_2136879b

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে চলাচলের উপযোগী এয়ারশিপ তৈরির ব্যাপারটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তহবিলের অভাবে এ ধরনের যান তৈরির প্রচেষ্টা বাদ দিয়েছেন অনেক দক্ষ প্রকৌশলীও। তবে নাসার উদ্যোগে এখন হয়তো এ ব্যাপারে নতুন করে অগ্রগতি হতে পারে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এয়ারশিপ তৈরি করা নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে আধুনিক এয়ারশিপ তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে। এই এয়ারশিপগুলো গবেষণা কাজে অনেক কাজে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...