The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভাষা মতিনের চোখ বেঁচে থাকবে আরও বহুদিন

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ভাষা মতিন আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর চোখ থাকবে আমাদেরই মাঝে- আরও বহু দিন, বহু বছর। ভাষা মতিনের দানকরা চোখ সংযোজিত হয়েছে কলেজ শিক্ষক ইকবাল কবীর ও স্বাস্থ্যকর্মী রেশমা নাসরীনের চোখে। তাঁদের চোখেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন।

MA Motin-001

মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন এটিই চির সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁরা অমর হয়ে থাকেন। তাঁদের অবদান দুনিয়ার মানুষ কখনও শোধ করতে পারেন না। তেমনই একজন হলেন আমাদের ভাষা মতিন। অহঙ্কারমুক্ত, লোভ-লালসাহীন একজন ব্যক্তি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা সবার জানা। তিনি ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন। এক অন্যরকম মানুষ। তাঁর সান্নিধ্যে গিয়ে দেখেছি, তিনি একজন সহজ-সরল মানুষ। ক্ষমতার মোহ তাঁকে কখনও কাবু করতে পারেনি। তিনি ইচ্ছে করলে মন্ত্রী-মিনিস্টার হয়ে বিলাসবহুল জীবন -যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা কখনও করেননি। কেও তাঁকে টলাতে পারেনি। তিনি চটি সেন্ডেল পরে সাধারণ মানুষের মতো কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। সেই ভাষা মতিন আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি চলে গেছেন পরপারে। তবে তাঁর আদর্শ আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। নতি শিকার না করার আদর্শ। তিনি মরনের আগেও তাই তাঁর দেহ দান করে গেছেন। তাঁর দানকরা চোখে এখন দেখবে পৃথিবী।

ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের চোখ দিয়ে এখন নতুন করে পৃথিবী দেখছেন কলেজ শিক্ষক ইকবাল কবীর এবং স্বাস্থ্যকর্মী রেশমা নাসরীন। তাঁদের দুই চোখে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের দুই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ভাষা মতিনের কর্ণিয়া নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখা দুজনই বলেছেন, বাকি জীবন তাঁরা ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের আদর্শ অনুসরণ করেই চলবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য দেহ ও সন্ধানীকে চক্ষুদানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে যান আবদুল মতিন। ৮ অক্টোবর তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর চোখ সংগ্রহ করে সন্ধানী। পরদিন রাজধানীর সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে তাঁর দুই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় ইকবাল এবং রেশমার চোখে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২৭ বছর বয়সী রেশমা নাসরীন ঢাকার ধামরাই উপজেলার শিয়ালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একই উপজেলায় সুয়াপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছেন। ২ বছর আগে তাঁর বাম চোখের কর্নিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। এক সময় ওই চোখে তিনি আর কিছুই দেখতে পেতেন না। কর্ণিয়া সংযোজনের পর এখন তিনি দুই চোখেই দেখছেন। গত পরশু শনিবার রেশমা মুঠোফোনে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মতো বড় মাপের একজন মানুষের চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটি ব্যাপার।’

অপরদিকে ৪০ বছর বয়ষ্ক মো. ইকবাল কবীর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার বাংলাবাজার চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন। গ্লুকোমায় আক্রান্ত হয়ে ২ বছর আগে তিনিও বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এই মহান মানুষটি সারা জীবন মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর শরীরের একটি অংশ এখন আমার শরীরে বিদ্যমান। তাঁর চোখেই আমি পৃথিবী দেখবো। তাঁকে আদর্শ মেনেই আমি ভাবনাগুলো পরিচালনা করবো।’ এখন থেকে ছাত্র-ছাত্রী এবং নিজস্ব পরিমণ্ডলের মানুষকে মরণোত্তর চক্ষুদান বিষয়ে সচেতন করবেন বলে জানান এই শিক্ষক।

উল্লেখ্য, ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মতো মানুষের চক্ষুদানের খবরে অনেকেই মরণোত্তর চক্ষুদানে উৎসাহিত হবেন। এই দুজনের চোখে সফলভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেছেন বিএসএমএমইউ-এর চক্ষু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: শীষ রহমান।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...