ডায়াবেটিসকে হাতের মুঠোয় রাখতে…

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বর্তমানে পৃথিবীর শতকরা ২-৫ ভাগ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। বহুদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগলে সুদূরপ্রসারী জটিলতা দেখা দিতে পারে। রেটিনোপ্যাথির কারণে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া চোখে রক্তপাত, পুঁজ জমা, অন্ধত্ব এবং গ্লকোমা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস থেকে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
Diabates

ডায়াটেসি এর কারণে ত্বকে দেখা দেয় বারবার ইনফেকশন বা প্রদাহ, ফোড়া। স্নায়ুবিক ও মাংসপেশির দুর্বলতা, পুরুষত্বহীনতা এবং হূৎপিণ্ডের অসুখ।

ডায়াবেটিস কেন হয়

# জেনেটিক বা বংশগত কারণে
# ভাইরাস ইনফেকশন ও অটোইম্যুনের কারণে
# ওজনাধ্যিকের কারণে
# শারীরিক পরিশ্রম কম করলে
# গর্ভবতী মহিলার
# গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে সেই শিশুর
# বহুদিন ধরে স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার করলে
# জন্মের পরপরই শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ালে
# বেশি বেশি স্মোকড ফুড খেলে
# স্ট্রেস বা টেনশনের কারণে

গর্ভস্থ সন্তান খাবার বেশি না পেলে সেই শিশুর। অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন কম নিঃসৃত হয়। বড় হয়ে বেশি বেশি খাবার খেলে সেই কম ইনসুলিনে অতিরিক্ত খাবারের বিপাক পুরোপুরি সম্পন্ন হয় না। এতে করে বিপাকজনিত রোগ ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

# বেশি প্রস্রাব হওয়া
# রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাবের প্রবণতা
# খুব বেশি পিপাসা লাগা
# বেশি বেশি ক্ষুধা পাওয়া
# যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
# ক্লান্তি ও দুবর্লতা বোধ করা
# ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
# খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেয়া
# যৌনাঙ্গে চুলকানি
# চোখে কম দেখা
# মাথা ঘোরা
# কোন কাজে উৎসাহ না পাওয়া
# বার্ধক্য ছাড়াই যৌনক্ষমতা ক্রমেই কমে যাওয়া।

বাবা-মায়ের থাকলে কি সন্তানের ডায়াবেটিস হবেই

বাবা-মায়ের টাইপ টু ডায়াবেটিস থাকলে তাদের সন্তানদের মধ্যে এ রোগ দেখা দেয়ার যথেষ্ট প্রবণতা থাকে।
এ জন্য বলা হয়, পিতামাতার ডায়াবেটিস থাকলে শৈশবকাল থেকেই শিশুকে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাতে অভ্যস্ত করা জরুরি। এছাড়া খেয়াল রাখা উচিত, শিশুটির শরীর যেন মোটা না হয়ে যায় এবং তার মন প্রফুল্ল থাকে। আজকাল শিশুদের ডায়াবেটিস হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তাদের অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি, মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড, আইসক্রিম, চকোলেট, পেস্ট্রি ইত্যাদি খাওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ না পাওয়া।

ডায়াবেটিসের জটিলতা বৃদ্ধির ঝুঁকি কখন বাড়ে

# কম বয়সে ডায়াবেটিস হলে
# অনেক দেরিতে ডায়াবেটিস ধরা পড়লে
# দীর্ঘকাল ডায়াবেটিসে ভুগলে
# ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে
# রক্তে ঐনঅ১ঈ এর মাত্রা অধিক থাকলে
# রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে
# উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
# দৈহিক ওজন বেড়ে গেলে
# ধূমপান করলে।

কাদের হতে পারে

# রক্তের সম্পর্কের কারও ডায়াবেটিস থাকলে
# যাদের বয়স চল্লিশের বেশি
# যাদের মেদভুঁড়ি আছে
# যাদের ওজন অত্যধিক
# যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করে না
# যাদের খাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই

গর্ভবতী মহিলা

# যাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি
# যাদের হাইপ্রেসার আছে
# কাদের পরীক্ষা করা উচিত
# যাদের বয়স ৪৫ এর ঊর্ধ্বে
# যাদের শরীরের ওজন অত্যধিক বেশি
# হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পেলে
# অতিরিক্ত পানির পিপাসা
# অতিরিক্ত ক্ষুধা
# অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া
# অত্যধিক শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া

গর্ভবতী মহিলা

# রক্ত সম্পর্কীয় কারও ডায়াবেটিস থাকলে
# পূর্বে ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের সন্তান হলে
# রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা এর বেশি হলে

কখন প্রি-ডায়াবেটিক রোগী বলা যায়

সকালে অভুক্ত অবস্থায় রক্তে সুগারের পরিমাণ ৫.৬-৬.৯ মিলিমোল থাকলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে সুগারের পরিমাণ ৭.৮-১১ মিলিমোল হলে তাকে প্রি-ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা হয়।

কখন ডায়াবেটিক রোগী বলা যায়

সকালে অভুক্ত অবস্থায় রক্তে সুগারের পরিমাণ ৭.০ মিলিমোল বা তার বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে সুগারের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোল বা তার বেশি হলে এবং ডায়াবেটিসের প্রধান লক্ষণ বা চিহ্ন যে কোন একটি পরীক্ষায় অধিক সুগারের সঙ্গে থাকলে তাকে ডায়াবেটিক রোগী বলা যাবে।

বাড়িতে বসে ডায়াবেটিসের অবস্থা পর্যবেক্ষণ

গ্লুকোমিটার দিয়ে : রক্তের সুগারের পরিমাণ দেখতে পারেন গ্লুকোমিটার দিয়ে। এটি একটি বিশেষ ধরনের কম্পিউটারাইজড যন্ত্র। এতে সুবিধা হল রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশি না কম তা অতিদ্রুত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নির্ণয় করা সম্ভব। হাতের আঙুলের মাথা থেকে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে যন্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার রক্তের সুগারের পরিমাণ কত তা যন্ত্রটির মনিটরে রিডিং হিসেবে দেখতে পাবেন। প্রথমবারের মতো কারও ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য এ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না। এ যন্ত্র দিয়ে ডায়াবেটিক রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা দেখা হয়। সকালে অভুক্ত অবস্থায় ৬-এর কম এবং খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৮-এর কম থাকলে ডায়াবেটিস ভালো নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায়।

স্ট্রিপ দিয়ে : প্রস্রাবে সুগার, এলবুমিন এবং কিটোনবডি দেখতে পারেন বিশেষ কাঠি (ওয়াইডি স্ট্রিপ) পরীক্ষার মাধ্যমে। আপনি যখন প্রস্রাব করবেন তখন কাঠিটি প্রস্রাবে ভেজাবেন। সঙ্গে সঙ্গে তুলে প্রস্রাবের পানি ঝেরে ফেলে দেবেন। ১ মিনিট অপেক্ষা করবেন। যদি এর মধ্যে রঙের পরিবর্তন ঘটে তবে নির্দিষ্ট বাক্সের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে জেনে নিতে পারেন আপনার প্রস্রাবে সুগার যাচ্ছে কিনা কিংবা এলবুমিন বা কিটোনবডি আছে কিনা।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...