দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশুর ডায়াবেটিস নিয়ে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে- বেশি চকোলেট, মিষ্টি বা চিনি খেলে শিশুর ডায়াবেটিস হয়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজও নয়।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ডায়াবেটিসের বিভিন্ন ধরন রয়েছে ও এর সবচেয়ে সাধারণ ধরন টাইপ–১ ডায়াবেটিস, যা শুধুমাত্র মিষ্টি কিংবা চকোলেট খাওয়ার কারণে হয় না। তাই কোনো শিশু মিষ্টি কম খেলেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।
টাইপ–১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরি করা কোষগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয় ও রক্তে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যায়। এই রোগের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অপরদিকে টাইপ–২ ডায়াবেটিস শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে। এই ধরনের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পারিবারিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খাওয়া ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়।
শিশুর ডায়াবেটিসের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত পিপাসা লাগা, ওজন কমে যাওয়া, দুর্বল লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অনেক সময় ঝাপসা দেখা। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে বিছানা ভিজিয়ে ফেলার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বাবা-মায়ের করণীয় হলো শিশুকে সম্পূর্ণ মিষ্টি নিষিদ্ধ না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। ফল, সবজি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ, পূর্ণ শস্য ও বয়স অনুযায়ী সুষম খাবার দেওয়া উচিত। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড সীমিত রাখা ভালো।
শিশুকে প্রতিদিন খেলাধুলা বা শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড সুস্থ বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
আরেকটি ভুল ধারণা হলো- ডায়াবেটিস হলে শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। বাস্তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে ইনসুলিন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যেতে পারে।
চকোলেট কিংবা মিষ্টি না খেলেও শিশুর ডায়াবেটিস হতে পারে, বিশেষ করে টাইপ–১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে। তাই শুধু মিষ্টি খাওয়াকে দায়ী না করে লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org