দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি দুনিয়ায় আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটছে- কম্পিউটার চিপের গুরুত্ব অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, তত বেশি গণনাশক্তি, মেমোরি, নেটওয়ার্কিং ও ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হচ্ছে। যে কারণে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এখন শুধু ভালো সফটওয়্যার তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; উন্নত চিপ এবং পুরো কম্পিউটিং অবকাঠামো নিয়েও তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক গণনা করতে হয়। শুধু একটি শক্তিশালী প্রসেসর থাকলেই হয় না; হাজার হাজার চিপ একসঙ্গে কাজ করতে পারে এমন ডেটা সেন্টার প্রয়োজন। সেই চিপগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য দ্রুত নেটওয়ার্ক, পর্যাপ্ত মেমোরি ও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এআই অবকাঠামোর বিস্তার এখন শুধু GPU-এর ওপর নির্ভর করছে না; CPU, নেটওয়ার্কিং, রোবোটিক্স, মেমোরি এবং অন্যান্য অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ হলো NVIDIA-এর ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি। আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে রেকর্ড রাজস্বের কথা জানিয়েছে।
এআই চিপের পাশাপাশি চিপ প্যাকেজিং প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ শুধু ছোট ট্রানজিস্টর তৈরি করলেই উচ্চক্ষমতার চিপ তৈরি করা যায় না। একাধিক চিপ, মেমোরি এবং অন্যান্য উপাদানকে দ্রুত ও দক্ষভাবে একসঙ্গে কাজ করানোর প্রযুক্তিও প্রয়োজন।
সে কারণে চিপ তৈরির শিল্প এখন শুধু একটি দেশের বিষয় নয়। এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করছে। চিপ উৎপাদনকে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে এআই চিপের বিস্তারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। বড় ডেটা সেন্টারে বিপুলসংখ্যক উচ্চক্ষমতার চিপ একসঙ্গে চললে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থাও দরকার। যে কারণে ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন বিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
স্ট্যানফোর্ডের ২০২৬ সালের উদীয়মান প্রযুক্তি পর্যালোচনাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, সাইবার নিরাপত্তা এবং মহাকাশ প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান প্রযুক্তি হিসেবে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে এগোবে না; বরং এআই, চিপ, রোবট, নিরাপত্তা এবং শক্তি- সব একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এগোবে।
তাই আগামী দিনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা শুধু ‘কার এআই বেশি বুদ্ধিমান’- এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং কার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ, দ্রুততম নেটওয়ার্ক, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, দক্ষ ডেটা সেন্টার ও নিরাপদ কম্পিউটিং অবকাঠামো রয়েছে- সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণই হয়ে উঠবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org