দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল- এটি মানবজাতির সবচেয়ে পুরোনো বৈজ্ঞানিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি।

কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবী যখন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের একটি উত্তপ্ত গ্রহ, তখন কীভাবে প্রথম জীবনের সূচনা হয়েছিল, তার নিশ্চিত উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তবে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই রহস্যকে আরও বিস্ময়কর করে তুলেছে। গবেষকরা এমন প্রমাণের কথা জানিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে- পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি সম্ভবত একবার নয়, দুইটি পৃথক পথে ঘটতে পারে!
এটি শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিজ্ঞানীরা সরাসরি বলছেন না যে, পৃথিবীতে দু’টি পৃথক ‘মানবসভ্যতা’ কিংবা দুটি পৃথক জীবজগৎ তৈরি হয়েছিল। বরং গবেষণাটি জীবনের একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনের উদ্ভবের সম্ভাব্য দু’টি স্বতন্ত্র পথের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হচ্ছে- পৃথিবীর সমস্ত জীবের মধ্যে মৌলিক কিছু রাসায়নিক এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের মিল কেনো। ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষ পর্যন্ত জীবের কোষে যে মৌলিক জৈব রাসায়নিক ব্যবস্থা দেখা যায়, তার অনেকটা একই ধরনের। তাই দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হচ্ছে, পৃথিবীর বর্তমান জীবনের সবাই কোনো এক সাধারণ প্রাচীন পূর্বপুরুষেরই উত্তরসূরি।
তবে নতুন গবেষণার আলোচনায় প্রশ্ন উঠছে যে- সেই সাধারণ পূর্বপুরুষের পূর্বেও কী একাধিকবার জীবন সৃষ্টি হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো জীবনের কিছু প্রাথমিক রূপ পরিবেশের সঙ্গে টিকেই থাকতে পারেনি, হারিয়ে গেছে। অন্য কোনো পথের জীবন তুলনামূলকভাবে সফল হয়ে পরবর্তী জীবজগতের ভিত্তি তৈরি করেছে।
এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জীবনের উৎপত্তিকে একটি একক ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে সম্ভাব্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে বিবেচনার সুযোগও দেয়। পৃথিবীর প্রাচীন পরিবেশে পানি, খনিজ, গ্যাস ও বিভিন্ন শক্তির উৎসের উপস্থিতিতে জটিল জৈব অণু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোনো কোনো ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্ব-প্রতিলিপি কিংবা নিজেকে অনুকরণ করার ক্ষমতা অর্জন করে থাকতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। এটি পৃথিবীতে জীবনের দু’টি নিশ্চিত এবং স্বতন্ত্র সূচনার প্রমাণ নয়। গবেষণাটি এমন একটি বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরেছে, যা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।
সাইন্স ডেইলীতে প্রকাশিত গবেষণা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই অনুসন্ধানকে জীবনের গভীরতম উৎস নিয়ে নতুন প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এই গবেষণার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য অন্য জায়গাতে। যদি সত্যিই পৃথিবীতে একাধিকবার জীবনের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, তাহলে মহাবিশ্বের অন্য গ্রহ কিংবা উপগ্রহেও জীবন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের চিন্তা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
অর্থাৎ জীবনে যদি একবারের অত্যন্ত বিরল ঘটনা না হয়ে নির্দিষ্ট রাসায়নিক এবং পরিবেশগত পরিস্থিতিতে একাধিকবার তৈরি হতে পারে, তাহলে মহাবিশ্বে পৃথিবীর বাইরেও জীবনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা হয়তো আগের ধারণার চেয়েও বেশি।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও গবেষণা দরকার। জীবনের শুরু কোথায়, কীভাবে ও কতবার হয়েছিল- এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোর একটিও হয়ে উঠতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org