The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পৃথিবীর বাইরে জীবনের খোঁজে নতুন ইঙ্গিত: দূরবর্তী গ্রহে রহস্যময় গ্যাস শনাক্ত!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশ গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো একটি দূরবর্তী গ্রহের বায়ুমণ্ডলে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া, যেগুলো পৃথিবীতে সাধারণত জীবন্ত প্রাণীর কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পৃথিবীর বাইরে জীবনের খোঁজে নতুন ইঙ্গিত: দূরবর্তী গ্রহে রহস্যময় গ্যাস শনাক্ত! 1

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গ্রহটি পৃথিবী থেকে শত শত আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। গবেষকরা এর বায়ুমণ্ডলে ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS)-জাতীয় রাসায়নিকের সম্ভাব্য উপস্থিতির ইঙ্গিত পেয়েছেন। পৃথিবীতে এই গ্যাসের প্রধান উৎস হলো সমুদ্রের অণুজীব। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনই নিশ্চিতভাবে বলছেন না যে সেখানে প্রাণ রয়েছে, তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, গ্রহটির তাপমাত্রা এবং কক্ষপথ এমন হতে পারে, যেখানে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তরল পানিকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে সেখানে এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। বরং আরও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে গ্যাসগুলো অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়নি।

তবুও এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণাকে নতুন গতি দিয়েছে। আগামী প্রজন্মের দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে একই গ্রহে আরও বিশদ অনুসন্ধানের পরিকল্পনা চলছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগামী দশকের মধ্যেই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মানবজাতির সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি- “আমরা কী মহাবিশ্বে একা?” -তার উত্তর খোঁজার পথে এই গবেষণা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali