দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে একটি অজানা বস্তু শনাক্ত করেছেন, যা প্রতি ৪৪ মিনিটে একবার করে প্রায় দুই মিনিট দীর্ঘ অস্বাভাবিক রেডিও সংকেত (radio pulse) পৃথিবীর দিকে পাঠাচ্ছে।

অদ্ভুত সংকেতের প্রকৃতি
এই রেডিও সংকেতগুলি এমন কিছু হতে পারে যা পূর্বে কখনও দেখা হয়নি। ব্যাখ্যা করা হচ্ছে যে এই বস্তুর উৎসটি কোন প্রাকৃতিক বস্তু হতে পারে না বা হাঁকানো (engineered) কোনো বস্তুও হতে পারে, যেহেতু এর সংকেতের নিয়ম ও প্রোফাইল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বাইরে। এই সংকেত প্রতি ৪৪ মিনিটে পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিজ্ঞানীরা এটিকে ঘূর্ণায়মান বা পুনরাবৃত্তি সূচক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। ঘটনাটি গত বছরের।
কোন বস্তুটি এমন সংকেত পাঠাচ্ছে?
এই বস্তুর প্রকৃতি এখনো জানা যায়নি। এটি:
# বিশাল কোনো অ্যাস্টেরয়েড হতে পারে,
# কোন মহাকাশ কৃত্রিম বস্তু হতে পারে (যেমন মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ),
# অথবা একেবারেই অজানা কোনো প্রভাবে সৃষ্ট মহাবিশ্বীয় বস্তু।
এই অবজারভেশন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে (SKA) এবং অন্যান্য রেডিও টেলিস্কোপ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীর মন্তব্য ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে, এটি হয়তো এমন কোনো মহাবিশ্বীয় রহস্য, যা এখনও পর্যন্ত আমাদের অন্তর্দৃষ্টিতে ধরা পড়েনি। এরকম সংকেত হয়ে থাকতে পারে:
# দূরস্থিত কোনো নক্ষত্র বা ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি কোষাকুয়ে ঘটিত ক্রিয়া,
# কৃত্রিম বাহ্যিক সোর্স (যেমন স্পেস ডেব্রিস বা মানৱসৃষ্ট রেডিও উৎস),
# বা একটি নতুন ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই সংকেতের উৎস জানার চেষ্টা চলতে থাকবে। যদি এটি কৃত্রিম উৎস হয়, তাহলে এটি মানুষ-জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রহস্য—অন্য কোনো বুদ্ধিমান সভ্যতার সংকেত—ও হতে পারে। অন্যদিকে যদি এটি প্রাকৃতিক মহাকাশীয় বস্তু থেকে আসে, তাহলে সেটি নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সূচনা হিসেবে গণ্য হবে।
পৃথিবীর প্রতি ৪৪ মিনিটে আসা অদ্ভুত সংকেত আমাদের মহাকাশ-জ্ঞানকে নয়া চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে- এটি কোন প্রাকৃতিক জিনিস, কৃত্রিম বস্তু, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো রহস্য? বিজ্ঞান এখনও নিশ্চিত নয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org