দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশুদের মধ্যে পেটব্যথা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। কখনও খাবারের কারণে, কখনও গ্যাস বা হজমের সমস্যায় আবার কখনও সংক্রমণের কারণে শিশুদের পেটে ব্যথা হতে পারে।

অনেক সময় হঠাৎ করে শিশুর কান্না, অস্বস্তি বা খেতে না চাওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই শিশুর পেটব্যথা হলে অভিভাবকদের সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শিশুর পেটব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো গ্যাস বা বদহজম। অনেক সময় শিশু দ্রুত খাবার খেলে, অতিরিক্ত খাবার খেলে বা নতুন কোনো খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। এতে পেটে গ্যাস জমে ব্যথা অনুভূত হয়। আবার অপরিষ্কার খাবার বা পানির কারণেও পেটব্যথা হতে পারে।
শিশুর পেটব্যথা হলে প্রথমেই তার অবস্থার দিকে খেয়াল করা প্রয়োজন। যদি ব্যথা হালকা হয়, তাহলে কিছু সহজ উপায়েই শিশুকে আরাম দেওয়া সম্ভব। যেমন- শিশুকে কিছু সময় বিশ্রাম নিতে দেওয়া, হালকা গরম পানি পান করানো বা পেটের ওপর হালকা গরম সেঁক দেওয়া। অনেক সময় এসব উপায়ে পেটের গ্যাস কমে গিয়ে ব্যথা কমে যায়।
শিশুর খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পেটব্যথা থাকলে ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার না দিয়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া ভালো। যেমন- ভাত, স্যুপ, কলা বা নরম খাবার। এসব খাবার সহজে হজম হয় এবং পেটে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেও শিশুদের পেটে ব্যথা হতে পারে। যদি শিশুর নিয়মিত মলত্যাগ না হয়, তাহলে তার খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার ও ফলমূল বাড়ানো যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন- ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকা, বমি হওয়া, জ্বর থাকা, পেট ফুলে যাওয়া বা শিশুর খাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া। এসব ক্ষেত্রে পেটের সংক্রমণ বা অন্য কোনো জটিল সমস্যা থাকতে পারে।
শিশুকে সব সময় পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় জীবাণুর সংক্রমণ থেকেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়।
শিশুদের পেটব্যথা অনেক সময় সাময়িক হলেও বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। শিশুর আচরণ ও লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। আর যদি সমস্যা গুরুতর মনে হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org