সাইবার ক্রাইম নিয়ে বিপাকে বিটিআরসি

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে সাইবার ক্রাইম। নজরদারি আর কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকি ও ধর্ম নিয়ে কটুক্তির দায়ে একদিকে বন্ধ করা হচ্ছে কিছু ফেসবুক ও ব্লগ। অন্যদিকে নতুন করে, নতুন নামে আবার খোলা হচ্ছে অন্য একাউন্ট।
সাইবার ক্রাইম
এভাবে দিনের পর দিন পরিধি বাড়ছে সাইবার ক্রাইমের। আর এ কারণে সব দিক সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), এমনকি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে কমিটি গঠন করেও কূল পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। গত ছয় মাস ধরে এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে বিটিআরসি। এতদিন সাইবার ক্রাইম নিয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেয়া না হলেও এবার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক ও ব্লগ বন্ধ নিয়ে বিটিআরসির একদিকে রয়েছে সরকারের উপর মহলের চাপ। অন্যদিকে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর আলটিমেটাম। এরই মধ্যে ইসলামপনি’ বেশ কয়েকটি দল ফেসবুক ও ব্লগে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য রুখতে জোর দাবি জানিয়েছে। কোন কোন দল এ নিয়ে বেশ কিছু কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করা হয়েছে ধর্মকে কটুক্তি করে লেখা ব্লগারদের। এসব নিয়ে অনেকটা চাপের মুখে পড়েছে বিটিআরসি। খবর দৈনিক মানবজমিন এর।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে যে ধরনের দক্ষ লোকবল ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিটিআরসির তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩২ লাখের বেশি। গত বছরের ২৫শে জানুয়ারি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ দল গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিডি-সিএসআইআরটি) নামে এই দল সে সময় থেকে সাইবার ক্রাইম শনাক্তে কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় ওয়েবসাইটগুলোতে- এমন বিষয় শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়াই এ দলের মূল কাজ। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিটিআরসির তিন জন সাইবার ক্রাইম (বিটিআরসি সহকারী পরিচালক পদমর্যাদা) বিশেষজ্ঞ পুরোদমে কাজ করছেন। ওই কমিটি গঠন হওয়ার পর সমপ্রতি ১২টি ফেসবুক পেজ ও ব্লগ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া পেজ বা ব্লগের নাম তারা প্রকাশ করেননি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেসবুক পেইজ নিয়ে অনেকটা অসহায় বিটিআরসি। আপত্তিকর পেজ বন্ধে বিটিআরসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানালে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। কারণ সব কিছু নির্ভর করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ওপর। তারা চাইলে বন্ধ করেন আবার না-ও করতে পারেন। তবে কোন পেজ বন্ধ করে দিলেও আপত্তিকর প্রচারণাকারী আবার সেই ধরনের পেইজ খুলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে গত ১৩ই মার্চ ফেসবুক ও ব্লগে ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৯ সদস্যের কমিটি করে সরকার। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, বিটিআরসি, আইন ও বিচার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক এবং পুলিশের (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অতিরিক্ত ডিআইজিকে রাখা হয়েছে। ওই কমিটি দেশের ৪৮টি ব্লগ সাইট ও আড়াই লাখ ব্লগার নজরদারী করতে বিটিআরসিকে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বর্তমানে বিটিআরসির পক্ষে আড়াই লাখ ব্লগারকে নজরদারি করা সম্ভব হবে কিনা।

গত ১৩ই মার্চ ফেসবুক ও ব্লগে ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করতে তথ্য প্রদানের জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা ও তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই কমিটি।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...