বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ প্রয়াত বিপ্লবী হুগো শাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে তার নির্বাচিত ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছে ভেনিজুয়েলার জনগণ। সাবেক বাসচালক থেকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হতে চলেছেন শাভেজের ‘পুত্র’ হিসেবে দাবি করা নিকোলাস মাদুরো। মৃত্যুর আগে শাভেজ দেশবাসীর উদ্দেশে বলে গিয়েছিলেন, তার (শাভেজের) কিছু হলে তারা যেন মাদুরোকেই তাদের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বেছে নেয়। শাভেজের শেষ কথা রেখেছেন ভেনিজুয়েলার জনগণ। আর মাদুরোও কথা দিয়েছিলেন শাভেজের অবর্তমানে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা ও একবিংশ শতাব্দীর সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা অক্ষুন্ন রাখবেন তিনি। খবর : রয়টার্স।
Veni p

তবে সহজেই পার পাননি মাদুরো। সমানে সমানে লড়াই করতে হয়েছে তাকে, যা ইঙ্গিত দেয় হিসাবে কিঞ্চিৎ ভুল হলেই ভবিষ্যতে অক্ষুণ্‌ন থাকবে না শাভেজের বিপ্লবী সাম্রাজ্য। ভেনিজুয়েলার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তিনি ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। যদিও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গনণার দাবি জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী হেনরিক ক্যাপ্রিলেস। যদি নির্বাচনী ফলাফলে হেরফের না হয় তবে শাভেজ যেভাবে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় ও নিজস্ব পরিমণ্ডলে আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনীতির মিশ্রণে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিলেন, তা ধরে রাখতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন মাদুরো। সুপ্রিম কমান্ডার শাভেজের দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে অভিজ্ঞতাও কম নয়। মাদুরো শাভেজের মতোই তৃণমূল থেকে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া মাদুরো প্রথম জীবনে বাসচালক ছিলেন। এ সময় তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৪ সালে কারাবন্দি শাভেজকে মুক্ত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন এবং শাভেজের সান্নিধ্য লাভ করেন। মাদুরো ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে শাভেজ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২০১২ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় ভাণ্ডার আছে ভেনিজুয়েলায়। এ অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল পালন করছে একটি বড় ভূমিকা। গ্রহীতা দেশগুলো পণ্যের বিনিময়ে এ অর্থ পরিশোধ করে। শুধু তাই নয়, শাভেজ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোয় কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতেন। কিন্তু এসবের বিনিময়ে শাভেজ তার নিজের রাজনীতি চাপিয়ে দেননি ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর ওপর। ফলে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মাদুরো সে নীতি বজায় রেখে দেশগুলোকে মার্কিন প্রভাবমুক্ত রাখতে পারবেন কি-না তাও দেখার বিষয়। অন্যদিকে বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলো এখন সামরিক অভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থান কিংবা সংঘাত, হানাহানির পরিবেশ সৃষ্টি করে সুযোগ নিতে পারে। কেননা ভেনিজুয়েলায় রয়েছে তাদের বড় স্বার্থ। বিরোধী পক্ষকেও তারা ব্যবহার করতে চাইবে। অনেকেই মনে করেন, শাভেজের মতো তার সেই ক্যারিশমা নেই; কিন্তু লাতিন আমেরিকায় বিশেষ করে বলিভিয়া, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়াথ সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে শাভেজের ‘পপুলিজম’, এ আন্দোলন মাদুরো অব্যাহত রাখতে পারবেন কি-না সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। (সৌজন্যে: দৈনিক সমকাল)।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...