মুসলমান না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে কেমন দেখাতো?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের উক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, সমালোচিত হয়েছে সমস্ত বিশ্বব্যাপী। মুসলমান না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে কেমন দেখাতো? সে প্রশ্নও উঠে এসেছে।

United States & Muslims

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপী।

এটি শুধু অভিবাসীদের জন্যই নয়, যেসব ভ্রমণকারী ও শিক্ষার্থী সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসতে আগ্রহী তাদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা দরকার বলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেছেন।

এদিকে এই বিষয়ে বর্তমানে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে অধ্যাপনা করা নারী অধিকার কর্মী ডা. কান্তা আহমেদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে সিএনএন।

ডা. কান্তা আহমেদের এই সাক্ষাৎকারে অন্যান্য জনপ্রিয় মুসলমান ব্যক্তিত্বের মধ্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশী স্থাপত্যবিদ ফজলুর রহমান খানের কথা।

সিএনএন’এর ওই সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ছিল, ‘ধরুন, মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে, সেক্ষেত্রে কেমন দেখাতো যুক্তরাষ্ট্রকে?’

কান্তা আহমেদের কাছে আরও প্রশ্ন ছিল, যদি ট্রাম্পের পরামর্শ বাস্তব হয়, তবে কী ঘটতো যুক্তরাষ্ট্রে?

ধরুন গত কয়েক দশক ধরে মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে, তবে কী সাংস্কৃতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সফলতা ও অগ্রগতি হারাতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে?

স্থাপত্য বিষয়ে অগ্রগতি কী হতো? মুসলিমদের ছাড়া শিকাগোর বিশাল বড় উইলস টাওয়ার (সাবেক সিয়ার্স টাওয়ার) বা জন হ্যাংকক সেন্টার চিন্তায় করা যায় না। ওই দুটি ভবনের নকশাই করেছেন প্রয়াত ফজলুর রহমান খান। তাঁর নকশা করা ১১০ তলা সিয়ার্স টাওয়ার ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন।

United States & Muslims-2

১৯২৯ সালে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা ফজলুর রহমান খান পড়াশুনার জন্য ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। একজন ধর্মভীরু মুসলমান হিসেবে ফজলুর রহমান খান সৌদি আরবের জেদ্দাতে প্রায় ১০ হাজার হাজির যাতায়াত সুবিধা সংবলিত একটি হজ টার্মিনালের নকশা করেন।

আরেকজনের নাম উঠে আসে। তিনি হলেন হাকীম ওলাজুয়ন। তিনি না থাকলে হয়তো ট্রফিবিহীন থাকতো হাউস্টন। অধুনাবিলুপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাউস্টন কমেট ফুটবল টিম ৪ বার জিতেছে ডব্লিওএনবিএ ট্রফি। বেশ কয়েকবার জিতেছে এমএলএফ কাপও। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে জিতেছে এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপস। আর এর পুরো কৃতিত্বটাই রকেট’র। যার আসল নাম হলো হাকীম ওলাজুয়ন। হাকীম ছিল তার দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খোলোয়াড়। খেলাধুলার মধ্যেও হাকীম রমজানে রোজা রাখতেন।

‘ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা ২০০৮ সালে তাকে এক সংবর্ধনা দেয়। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার সম্পর্কে বলা হয়, ‘ইসলামের নীতিগুলো ধারণ করে তিনি একইসঙ্গে মুসলিম ও মুসলিম যুবকদের জন্য এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।’

বলা হয় যে, ধর্মের কারণে যদি তাঁকে নাইজেরিয়া হতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেওয়া না হতো, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের এক নায়ককে হারাতো।

অপরদিকে মার্কিন সঙ্গীতে ব্যতিক্রম ধারা সৃষ্টিকারী রে চার্লস ও আরেথা ফ্রাঙ্কলিনের মতো শিল্পীরা ইতিহাসে হয়তো স্থানই পেতো না, যদি আহমেদ এরদোগানের মতো সঙ্গীত পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রে না থাকতো।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক রেকর্ডের প্রতিষ্ঠাতা এই আহমেদ এরদোগান শুধু তাদেরকেই সঙ্গীতে তুলে আনেননি, রোলিং স্টোনস, লেড জেপেলিন ও ক্রসবি, স্টিলস, নাশ এবং ইয়াং’র মতো গানের দলও তিনি সৃষ্টি করেছেন।

তুরস্ক হতে তার কূটনৈতিক বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আহমেদ এরদোগান। অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তার বাবাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে অনুমতি না দিলে সঙ্গীত জগতের এক পুরোধাকে হারাতো যুক্তরাষ্ট্র!

ডা. কান্তা আহমেদ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের এমন কিছু সফলতার ঘটনা রয়েছে, যা শুনলে যে কেও বলবে, ‘তারা এদেশকে অগ্রগামী করেছেন।’

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...