ঈদ নাটক: ৩ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘যা কিছু ঘটে’ প্রচারিত হবে দীপ্ত টিভিতে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঈদের বিশেষ নাটক ৩ পর্বের ধারাবাহিক ‘যা কিছু ঘটে’ প্রচারিত হবে দীপ্ত টিভিতে। ঈদের দিন হতে ঈদের ৩য় দিন পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৯:৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে।

3 episode drama

নাটকটি রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন সালমান মুক্তাদির, সৌমিক, অ্যালেন শুভ্র, সাবিলা নূর, নোমিরা। পরিবেশনায়- দৃক। প্রযোজনায় পি আর প্রোডাকশন।

কাহিনী সংক্ষেপ:

বন্ধু। খুব চেনা শব্দ গুলোর মধ্যে অতি প্রিয় একটি নাম। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বন্ধু শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বন্ধুত্বের সম্পর্ক অন্যান্য সম্পর্কের থেকেও অনেক বেশি মূল্যবান। সেই ছোটবেলায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পাওয়া প্রথম বন্ধু, স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ভার্সিটি কেন্টিনে পাওয়া নতুন বন্ধু। সম্পর্কের শুরুটা যার যেমনি হোক, টিকিয়ে রাখা সেই সম্পর্কের মাঝে রয়েছে অকৃতিম স্নেহ, এবং ভালবাসা। আমাদের গল্পেও জড়িয়ে রয়েছে তিনজন বন্ধু। ভার্সিটি পড়তে এসে তাদের পরিচয়, মাঝের সময় কোনো বন্ধুর হারিয়ে যাওয়া, আবার কোনো কোনো সময় পুরনো বন্ধুকে ফিরে পাওয়া। কর্মবেস্ত ব্যাঙ্ক পাড়া। গত দুই দিন ধরে ছুটি থাকায় আজ সকাল থেকে কাজের চাপ বেশি সেই সাথে মানুষেরও। ব্যস্ততার এই সময়টাতে মানুষ ছুটছে যে যার মত করে। মতিঝিল এই ব্যাঙ্ক পাড়ায় এই সময়টাতে একটু বেশিই বেতিব্যস্ত থাকে। এই ব্যস্ততার দিনে অমি আজ খুব দেরী করে ফেলে অফিস যেতে। তাড়াহুরা করে রুপায়ন টাওয়ার এর সামনে নেমে দুরে ঢুকে পরে অফিসের দিকে। এই টাওয়ার এর সপ্তম তলায় অমির অফিস।

3 episode drama-2

অফিসে ঢুকেই present list সাইন করে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে। আজকের দিনের কার্যক্রম নিজের টেবিলে বসে দেখতে দেখতে বস তাকে ডেকে পাঠায়। একটা খাম হাতে দিয়ে বলে, "এই খামটা অমুক অফিসে জমা দেয়ার জন্য। মাত্র অফিসে এসে এখনি বের হতে ইচ্ছে করে না অমির। কিন্তু দেরী করবার কারণে কাজটা এখনি তাকে করতে হয়। লিফট দিয়ে নিচে নামছে। 5 th floor-এ লিফট থামে। কিছু লোক নেমে যায় এবং কিছু লোক উঠে নিচে নামার জন্য।

লিফটের এই পিনপতন নিরবতার মধ্যে একজন লোক মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া না সত্বেও হ্যালো, হ্যালো করছে। প্রথমদিকে অমি সেই দিকে না তাকালেও পরে অমি বিরক্তি নিয়ে ব্যক্তিটির দিকে তাকায়। লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোরে আসার পর সবাই যখন নামছে তখন অমি সেই ব্যক্তিটিকে ডাক দেয়। লোকটি পিছনে তাকাতেই একরাশ বিস্ময় ও আনন্দ নিয়ে অমির দিকে তাকায়। লিফটে থাকা সেই লোকটি অমির খুব পুরনো বন্ধু। তার নাম তানভির। বহুদিন পর পুরনো বন্ধুকে খুঁজে পেয়ে দুই বন্ধুই খুশিতে আত্মহারা। পাশের একটা দোকানে দুই বন্ধু মিলে বসে। তানভির বেশ কয়েক বছর পর কিছুদিন হলো দেশে ফিরে আসে। এই রুপায়ন টাওয়ারের 5 th -এ সে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর জন্য স্পেস খুজতে আসে। সেখানে এসেই দেখা।দুই বন্ধু মিলে খোশ গল্পে মেতে উঠে। কথা প্রসংগে অমি বলে, সে একটা অফিসিয়াল কাজে একটা জায়গায় যাবে। বিকেলের দিকে কাজ শেষ করে দুই বন্ধু দুই বন্ধু মিলে একসাথে আবার দেখা করবে। বিকেলের দিকে তানভির আসে। অমি তার অফিসের কাজ শেষ করে তানভিরকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। যাওয়ার পথে কারণ জানতে চাইলে অমি কিছুই বলে না। হাসপাতালের সামনে এসে গাড়ি থামে।

3 episode drama-3

দুই বন্ধু হাসপাতালের করিডোর ধরে এগুতে থাকে। অমি, তানভিরকে ২০৬ নাম্বার কেবিনে ঢুকে। হাসপাতালের বিছানায় প্রিয় বন্ধু রুমেলকে দেখে এক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পরে তানভির। ওয়েটিং রুমে পাশাপাশি বসে আছে অমি এবং তানভির। তানভির অনেক পুরনো স্মৃতি হাতরে বলে উঠে, "মনে পরে অমি, প্রথম যেদিন রুমেল ভার্সিটিতে এসেছিল, ক্লাসের নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট পর।………আজ ভার্সিটিতে রুমেলের প্রথম দিন। সবারই ভার্সিটির প্রথম দিনে আগে আগে যাওয়ার তারা থাকে। রুমেলের কোনটাই ছিল না। বরং সে আস্তে আস্তে প্রিপারেশন নিয়ে ৩০ মিনিট পর ক্লাসে ঢুকে। লেট করে আসার কারণে মেডাম তাকে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে বলে। রুমেল মেডামের সামনে গিয়ে বলে, "ম্যাডাম, আপনে কি কালকে ফ্রি আছেন?? শুনে পুরো ক্লাস হই হই করে উঠে। ম্যাডাম রাগ হয়ে রুমেলের দিকে তাকায়। রুমেল আবার বলে, "ম্যাডাম, কালকে যদি ফ্রি থাকেন তাহলে আমার বাসায় আসতে পারবেন??? এই কথা শুনে পুরো ক্লাস আবারও হই হই করে উঠে। এইবার ম্যাডাম চূড়ান্ত পর্যায়ে রাগ হয়ে বাসায় যাবার কারণ জিগ্গেস করলে রুমেল বলে, "ম্যাডাম, জীবনের প্রথম ভার্সিটি তে ক্লাস করতে এসে যদি তা না করতে পারি তাহলে ম্যাডাম আমার আর বাইচা থাকার দরকার নাই। আমি সুইসাইড করব ম্যাডাম। আপনে কালকে যদি ফ্রি থাকেন তাহলে আমার বাসায় আইসা আমাকে দেইখা যাইয়েন। ম্যাডাম বলে, তোমার আর বাইরে যাওয়ার দরকার নাই, যাও তুমি সিটে বসো। রুমেল সে দুষ্টের কয়েক লেভেল উপরে প্রথম দিনেই তা সবাই টের পেয়ে যায়। অভাবে করে কয়েকদিন ভার্সিটি লাইফ চলতে থাকে। প্রিয়তিকে অমি অনেক পছন্দ করে। প্রিয়তির সাথে রুমেলর অনেক ভালো বন্ধত্ব। কিন্তু অমি প্রিয়তিকে ঠিক ভাবে তার মনের কথা বলতে পারে না। একই ক্লাস মেট হবার কারণে
রুমেলের সাথে অমিরও খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়। অমির ব্যাপারটা রুমেল যখন জানতে পারে তখন সে নিজে অমির ব্যাপারটা প্রিয়তিকে বলে। বলতে গেলে অমি আর প্রিয়তির প্রেমের সূত্রপাত রুমেলের হাত ধরেই।….

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...