প্লেনে চড়ে যাওয়ার কথা ছিল সেনেগালের রাজধানী ডাকার, চলে আসলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ডাকার হচ্ছে সেনেগালের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর। আমেরিকার লস এঞ্জেলেসের অধিবাসী স্যান্ডি ভালডিভিয়েসো ও তার স্বামী, লস এঞ্জেলেস এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে চড়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকার যাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও প্লেন থেকে নেমে দেখেন শেষ পর্যন্ত তারা পৌঁছে গেছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়! যদিও শুনতে বেশ অবাক লাগার কথা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই ঘটেছে বিমান সেক্টরে।

compo_2567099b

৩১ বছর বয়সী স্যান্ডি UCLA-তে (University of California, Los Angeles) একাডেমিক কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করেন। তিনি এবং তার ৩৯ বছর বয়সী মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক স্বামী ট্রায়েট ভো আফ্রিকার সেনেগালে যেতে চেয়েছিলেন স্যান্ডির পুরাতন সহকর্মীর সাথে দেখার করার উদ্দেশ্যে। অথচ তুর্কি এয়ারলাইনস কর্মীদের সামান্য ৩ অক্ষরবিশিষ্ট একটি ভুল সাংকেতিক কোডের কারণে তারা ডাকারের পরিবর্তে পৌঁছে গেলেন ঢাকা।

লস এঞ্জেলেসের কোড হলো LAX, সেনেগালের রাজধানী ডাকারের কোড হলো DKR এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কোড হলো DAC। তুর্কি এয়ারলাইনসের কর্মীরা টিকিটে তাদের যাত্রাপথ From LAX To DKR এর পরিবর্তে From LAX To DAC বসিয়ে দেন। তাই তুর্কির ইস্তানবুলে নেমে ৪ ঘন্টা অপেক্ষার পর তারা যখন ২য় যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন তারা কেউই বুঝতে পারেননি যে তারা ভুল ফ্লাইটের দিকে পা বাড়িয়েছেন। এমনকি সিট 31A ও 31B তে বসেও তারা বুঝতে পারেননি যে তারা ভুল প্লেনে বসেছিলেন।

মজার ব্যাপার হলো, যখন যাত্রীদের সুবিধার্থে প্লেনে ঘোষণা করা হয় ঢাকার কথা, তারা মনে করেছিলেন এটা তুর্কিদের উচ্চারণের সমস্যা। তাই তারা প্লেনের মধ্যে নিশ্চিতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারেন যে তারা মিডল ইস্ট ছাড়িয়ে গেছেন।তারা চারপাশে তাকিয়ে আফ্রিকানদের বদলে এশিয়াদের দেখতে পান। তখন তারা বুঝতে পারলেন যে তাদের অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশে নামার ৯ ঘন্টা পর তুর্কি এয়ারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।তুর্কি বিমান কর্তৃপক্ষ জানান তারা তাদের রেকর্ড চেক করবেন যে আসলেই স্যান্ডি ঠিক ফ্লাইট নির্বাচন করেছিলেন কি না। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তুর্কি বিমান কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই প্রায় ১২ ঘন্টা পর তাদের ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল এবং পরবর্তিতে ইস্তাম্বুল থেকে ডাকার যাবার ফ্লাইটে তুলে দেন। ইস্তাম্বুল পৌঁছানোর ২ দিন পরে স্যান্ডি তাদের মালামাল বুঝে পান।

এই ঘটনার পর স্যান্ডি দীর্ঘ ১ মাস প্রতি শুক্রবার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ফোন করেছেন তুর্কি এয়ারলাইনসের অথোরিটির কাছে। তুর্কি এয়ারলাইনসের অথোরিটি তাকে জানায় তার বিষয়টি দেখা হবে এবং পরে তাকে এই ব্যাপারে অবহিত করা হবে । কিন্তু তারা তা করেনি। তবে স্যান্ডিও ছেড়ে দেয়ার পাত্রী না। অবশেষে, দীর্ঘ ৪ মাস পর তুর্কি এয়ারলাইনসের ওয়েস্ট কোস্ট-এর জেনারেল ম্যানেজার ফাতেমা তার সাথে যোগাযোগ করে জানান যে টিকিটে ভুল কোড বসানোর কারণেই এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং এজন্য তিনি “খুবই, খুবই  দুঃখিত।” ফাতেমা আরো জানান যে, তুর্কি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ স্যান্ডি এবং তার স্বামীর জন্য ইকোনমি ক্লাসের ২টি টিকেট ফ্রি বরাদ্দ করেছেন যাতে করে তারা তুর্কি এয়ারলাইনসে চড়ে যেকোন গন্তব্যে যেতে পারেন।

স্যান্ডি জানান, “এটা সত্যিই ছিলো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।” তিনি আরো জানান, “এরপর থেকে টিকিট ৩ বার চেক করে তবেই প্লেনে উঠবো।

তথ্যসূত্রঃ লস এঞ্জেলেস টাইমস

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...