প্রবাসীরাও ভোটার হতে পারবেন

প্রবাসে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশীকে ভোটার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যারা প্রবাসে থাকেন তারা ভোটার হওয়ার জন্য উদগ্রিব থাকেন। কারণ তারা বিদেশ বিভূয়ে থাকলেও তাদের মনটা পড়ে থাকে দেশেই। এবার প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার হবেন আজ জেনে নিন।

দেশের বাইরে প্রবাসে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশীকে ভোটার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোতে ডেস্ক খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির। এসব ডেস্কের মাধ্যমে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ভোটার হতে পারবেন। সেজন্য দূতাবাসে স্থাপন করা হবে লোকাল সার্ভার স্টেশন।

আবার সুবিধাজনক স্থানে থাকবে অস্থায়ী নিবন্ধন কেন্দ্রও। সেখানে সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহের জন্য অবস্থান করে প্রবাসীদের ভোটার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। দেশের ভোটারদের মতোই প্রবাসীরাও পাবেন স্মার্টকার্ড। মধ্য-প্রাচ্যেসহ দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরব, কাতার এবং মালয়েশিয়া। প্রবাসীদের ভোটার করা সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবনা হতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, খসড়া প্রস্তাবে প্রবাসীদের সংখ্যা বিবেচনায় জেলা/প্রদেশ অনুযায়ী ভোটার করার কথা বলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ লোকার গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে তাদেরকে ভোটার হতে উদ্বুদ্ধ করবে ইসি। দূতাবাসে বৈদেশিক অফিস খুলে লোকার সার্ভারও স্থাপন করা হবে। যাতে প্রবাসীরা ছুটির দিনে বা অফ-টাইমে এসে ভোটার হতে পারেন। সেইসঙ্গে কর্মদিবসে প্রতিনিধি টিমকে সপ্তাহে ২ দিন রাখা যেতে পারে।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে প্রবাসীদের কেবলমাত্র তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন ফরম পূরণ ও সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন সাপেক্ষে নিবন্ধন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা এবং পাসপোর্টের স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী নাগরিকরা ভোটার হতে পারবেন। দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশী পাসপোর্টের কপি/বিদেশী পাসপোর্টধারী দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ বা শনাক্তকারী হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাসপোর্টের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার নির্বাচন অফিসারকে রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হবে।

যেসব এলাকায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেশি সেখানে কয়েকদিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রও স্থাপন করা হবে। অনলাইনে আবেদনকারীর আবেদন এন্ট্রির পর একাউন্টে ছবি এবং বায়োমেট্রিক ডাটা (১০ আঙ্গুলের ছোট ও চোখের আইরিশ) নির্দিষ্ট স্থান এবং তারিখ অবহিত করে গ্রহণ করা হবে। তবে যারা অনলাইনে আবেদনে অক্ষম হবেন তাদের তথ্য সংগ্রহের পর একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণে রাখা হবে।

তারপর ভিপিএন সংযোগের মাধ্যমে ছবি এবং বায়োমেট্রিক সম্বলিত ডাটা সাময়িকভাবে সার্ভারে আপলোড করা হবে। রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে থাকা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অফিসিয়াল একাউন্টের মাধ্যমে প্রবাসী নিবন্ধনের ডাটা জমা হয়েছে কি না সেটি যাচাই করা হবে।

সূত্র আরও বলেছে, অনলাইন আবেদন ফরম সঠিক থাকলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার কিংবা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের একাউন্টে জমা হবে। সংশ্লিষ্ট অফিসার ভোটারের আবেদন যাচাই এবং তদন্ত করে তথ্য প্রদান করবেন, যাতে প্রবাসী শাখা তার ডাটাটি (সংশ্লিষ্ট ওই ভোটারের) মূল সার্ভারে আপলোড করে ও দ্রুত পরিচয়পত্রটি সংগ্রহ করতে পারেন। পাশাপাশি আবেদনকারী নিবন্ধনে অযোগ্য হলে সে বিষয়টিও দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (বিভিআরএস) এবং আইটি অভিজ্ঞ ১ জন, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ১ জন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ৪ জনসহ মোট ৬ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হবে। তবে ৪টির বেশি টিম কোন দেশে পাঠানো হলে সুপারভিশন হিসেবে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানোর সুপারিশ থাকছে ওই প্রস্তাবে।

সর্বপ্রথম ইসির ডাটাবেজ ব্যবহার করে প্রবাসীদের ভোটার করার কথা বলেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবও কমিশনে আসে। কমিশন তাদের এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়। ইতিপূর্বে প্রবাসীদের ভোটার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ।

তাদের প্রস্তাবেও এনআইডির মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে বায়োমেট্রিক সংগ্রহের হয়। আগের প্রস্তাব বাদ দিয়ে প্রবাসীদের প্রবাসে থাকা অবস্থায় ভোটার করার প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। যা পর্যালোচনার পর শীঘ্রই কমিশনে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালত ১৯৯৮ সালে দেশের প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দিলেও দীর্ঘ ১৮ বছরে তাদের সে অধিকার বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কোটির উপরে প্রবাসীরা অবস্থান করছেন। তাদের ভোটার করা হলে প্রবাসীরা সাংবিধানিক সেই স্বীকৃতিও পাবেন।

Loading...