ব্রিটিশ দূতাবাসে চাকুরি পেলো এক ‘বিড়াল’!

জর্ডানে ব্রিটিশ দূতাবাসে ‘চিফ মাউসার’ বা ‘প্রধান ইঁদুর শিকারি’ হিসেবে এক বিড়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিড়াল কখনও যে চাকরি পেতে পারে তা আমরা আগে শুনিনি। তবে এবার এমনই একটি খবর অনলাইন মাধ্যমে ভাইরাল। খবরটি হলো ব্রিটিশ দূতাবাসে চাকুরি পেলো এক ‘বিড়াল’!

বর্তমান সময়ের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বদৌলতে মানুষ ক্রমেই যেনো রোবট হয়ে যাচ্ছে! তবে সত্যিই যদি তা হয়েও যায় তাহলে খুব একটা বেশি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। চারপাশের যান্ত্রিকতা প্রতিনিয়তই আমাদের জীবন-জীবিকাকে রোবটিক করে তুলছে।

বর্তমানে বিশ্বে বহু প্রতিষ্ঠান এবং শহরে মানুষের কাজ চালাচ্ছে রোবট। সেটি অনেকটা মানানসই পর্যায়ে চলে এসেছে। তাহলে বুঝুন এবার বিড়াল চালাবে অফিস-আদালত!

বিস্ময়কর মনে হলেও জর্ডানে ব্রিটিশ দূতাবাসে ‘চিফ মাউসার’ বা ‘প্রধান ইঁদুর শিকারি’ হিসেবে এক বিড়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেখতে মোটাসোটা সাদা-কালো রংয়ের বিড়ালটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লরেন্স অব আবদুন’। গত মাসে পশু–প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র হতে নিয়ে আসা হয় ওই বিড়ালটিকে।

লরেন্স ইতিপূর্বে উদ্ধারকারী বিড়াল হিসেবে কাজ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার তাকে ব্রিটিশ দূতাবাসে চাকুরি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তার নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে। দেখতে দেখতে তার অনুসারীর সংখ্যা আড়াই হাজার পেরিয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেওয়া এক তথ্যে জানা গেছে, ঐতিহাসিক পটভূমি হতে বিড়ালটির নাম ‘লরেন্স অব আবদুন’ রাখা হয়েছে। এই নামের সঙ্গে মিশে রয়েছে টমাস অ্যাডওয়ার্ড লরেন্সের নাম।

টমাস অ্যাডওয়ার্ড লরেন্স প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আরবের হয়ে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বলে তাঁকে ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’ আখ্যা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই তার নামের লরেন্স অংশটি বিড়ালটির নামের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হলো। অপরদিকে আবদুন নামটি এসেছে একটি স্থানের নাম হতে। জর্ডানে ব্রিটিশ দূতাবাসে অবস্থিত আম্মানের পার্শ্ববর্তী শহর আবদুনে। সেই শহরের নাম হতেই বিড়ালটির নামের সঙ্গে ‘আবদুন’ যুক্ত হয়েছে।

এদিকে অফিসিয়ালি কাজে যোগদানের পাশাপাশি লরেন্স ইতিমধ্যে টুইটারে ভক্তদের কাছেও পৌঁছে গেছে। জর্ডানে ব্রিটিশ দূতাবাসের কূটনীতিক লরা ডাউবান এক টুইটে বলেছেন যে, এখন ব্রিটিশ নাগরিকরা জর্ডানে নিজ দেশের দূতাবাসটিকে অন্য চোখে দেখবে। তিনি ব্রিটিশ পর্যটকদের জর্ডানে নিজ দেশের দূতাবাস পরিদর্শনেরও আহ্বান জানান।

এমন বিরূপ মন্তব্যে কষ্ট পাচ্ছে লরেন্স। বিড়াল হলেও তারও তো মন রয়েছে। টুইটারে অনেকেই তাকে মোটা বলেছে। টুইটারে ‘ডিপ্লোম্যাটিক ক্যাট’ পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর অনুসারীদের মন্তব্যের মুখে পড়েছে এই লরেন্স অব আবদুন। নিজের ফিগার ফিটনেস ঠিক করতে সে নাকি ব্যয়াম করাও শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বেশ কিছু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিপূর্বেও নানা প্রাণীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা আমাদের অনেকেরই জানা। এরমধ্যে গত বছর ইঁদুর শিকারে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘পালমারস্টোন’ নামে এক বিড়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...