এবার আসছে স্টিয়ারিং ছাড়াই গাড়ি!

স্বচালিত গাড়িকে এবার প্রকৃত অর্থেই আরও ‘স্বনির্ভর’ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত একটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি জেনারেল মোটরস

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আধুনিক যেসব গাড়ি এ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে, অর্থাৎ চালক বিহীন গাড়িগুলোতেও স্টিয়ারিং থাকে। তবে এবার এমন এক গাড়ি আসছে যার কোনো স্টিয়ারিং থাকবে না!

নিজে ড্রাইভিং কার বা স্বচালিত গাড়ির খবর এখন অনেক পুরনো হয়ে গেছে। গুগল ছাড়াও বহু প্রতিষ্ঠান এমনসব গাড়ি তৈরি করেছে যেগুলো চালকের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজেই চলতে পারে। কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পৌঁছে যাবে গন্তব্যে। তবে এসব গাড়িতে একটা স্টিয়ারিং অবশ্যই থাকে। একজন মানব চালক তার সামনে হাত গুটিয়ে বসে থাকে; তাকে একবারের জন্যও স্টিয়ারিংয়ে হাত দিতে হয় না। স্টিয়ারিংটি রাখা হয় এই কারণে যদি কোনোভাবে যন্ত্র ভুল করে বসে তখন মানব চালক স্টিয়ারিং ধরে গাড়িটিকে বিপদমুক্ত করতে পারবেন সেজন্য।

তবে স্বচালিত গাড়িকে এবার প্রকৃত অর্থেই আরও ‘স্বনির্ভর’ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত একটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি জেনারেল মোটরস। তারা চালকবিহীন একটি গাড়ি সম্প্রতি উন্মুক্ত করেছেন যাতে চালকের জন্য কোনো আসনও থাকবে না। চালকের আসনের কোনো দরকারও পড়বে না। কারণ এই গাড়িতে কোনো স্টিয়ারিং থাকবে না। গাড়ির সামনে দুটো সিট রয়েছে বটে, তবে তা কেবল যাত্রীদের বসার জন্যই রাখা হয়েছে! ‘অদৃশ্য চালক’ গাড়িটিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।’

জেনারেল মোটরস একটি শতবর্ষী খ্যাতি সম্পন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা ১১০ বছর ধরে গাড়ি তৈরি করে আসছেন। এই সময়ের মধ্যে ১ কোটির বেশি গাড়ি তৈরি করেছে এই কোম্পানিটি। তবে স্টিয়ারিং ছাড়া গাড়ি তৈরির কথা কোনোদিন তারা নিজেরাও ভাবতে পারেনি। এবার বাস্তবে সেটি করে দেখালো এই কোম্পানি। চালক ও স্টিয়ারিং বিহীন এই গাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রুজ অটোমেশন’। বছরখানেকের মধ্যে তারা এই ধরনের গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে উবারের মতোই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে নিযুক্ত করতে চান। এতে যাত্রী তার মোবাইল ফোনের অ্যাপ হতে স্থান এবং গন্তব্য বলে দিলেই একদম খালি গাড়িটি নিজেই ছুটে গিয়ে যাত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দেবে যাত্রীকে ওঠার জন্য। যাত্রী গাড়িতে ওঠার পর নিজেই দরজা লক করে গন্তব্যে ছুটবে গাড়ি! ভাড়ার টাকা কাটা হবে অ্যাপে যোগ করা যাত্রীর ক্রেডিট কার্ড কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হতে।

ওই কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, গাড়িতে মানব নিয়ন্ত্রিত অ্যাক্সেলারেটর, ব্রেক কোনোটিই থাকবে না। সবই করবে গাড়ি নিজেই। যাত্রী ভয়েস কমান্ড দিয়ে গাড়িকে কোনো নির্দেশও দেওয়া যাবে। এছাড়া ভেতরে প্রতিটি সিটের পেছনে টাচস্ক্রিণ রয়েছে। এই স্ক্রিণে গুগল ম্যাপে গাড়িটি কোথায় যাচ্ছে তা দেখাও যায়। এই স্ক্রিণ থেকেও যাত্রী ইচ্ছা করলে তার গন্তব্য পরিবর্তন করতে বা অন্যান্য নির্দেশনা দিতে পারবেন।

এই গাড়ি চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে আবেদনও করেছেন। তারা নিরাপত্তার কিছু সেকেলে ধারা বাতিলের অনুরোধও করেছেন। কারণ ওই ধারাগুলো কেবল মানব ড্রাইভারদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। ইতিমধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গাড়িবহুল সড়কে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ট্রায়ালও দিয়েছে বলে জানিয়েছে ওই কোম্পানিটি।

Advertisements
Loading...