কাশ্মীরের এক অপরূপ গ্রামের নাম বাংলাদেশ!

এই গ্রামটির জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে অনেক গ্রাম রয়েছে। কিন্তু তাই বলে গ্রামের নাম বাংলাদেশ? ঠিক তাই কাশ্মীরের এক অপরূপ গ্রামের নাম বাংলাদেশ!

কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলা হয়ে থাকে। এমনই দৃষ্টি নন্দন ও মনোরম এর প্রকৃতি হলো এই কাশ্মীর। এর অপরূপ রূপে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর হতে শুরু করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও মজেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা লিখেছিলেন কাশ্মীরে বসে। অনিন্দ্য সুন্দর কাশ্মীরের মাটিতে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরও। কেবল বিখ্যাত ব্যক্তিরাই নন, প্রতিবছর বাংলাদেশ হতে বহু মানুষ ভ্রমণে যান কাশ্মীর। বেড়ানোর জন্য আমাদের অনেকেরই প্রিয় স্থান হিসেবে বেছে নেন কাশ্মীরকে।

আপনি জানেন কী? এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বলে খ্যাত কাশ্মীরেও রয়েছে এমন এক অপরূপ গ্রাম, যার নাম হলো বাংলাদেশ!

সবমিলিয়ে কাশ্মীরে রয়েছে ২২টি জেলা। শ্রীনগর হতে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে গেলে যে জেলা পড়বে তার নাম হলো বান্ডিপুরা। এই বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে একটি গ্রামের নাম হলো বাংলাদেশ। বিখ্যাত উলার হৃদের তীরে ভাসমান এই গ্রামের বাইরে লোকজনের খুব একটা আনাগোনা নেই বললেই চলে। বান্ডিপুরা-সোপুরের মধ্যদিয়ে মাটির রাস্তা ধরে ৫ কিলোমিটার হাঁটলেই দেখা যাবে সেই গ্রামকে যার নাম বাংলাদেশ।

খুব স্বাভাবিকভাবেই যে কারও মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ওই গ্রামের এমন নামকরণ কেনো করা হলো? আপনি জেনে অবাক হবেন যে, কাশ্মীরের এই গ্রামটির সঙ্গে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের নাকি যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭১ সালে জুরিমন নামক এক গ্রামের ৫/৬টি ঘরে আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে পুড়ে যায় ঘরগুলো। গৃহহীন হয়ে পড়েন নিরীহ সাধারণ ওই মানুষগুলো। তারা তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা হতে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা স্থানে সবাই মিলে ঘর তোলেন। সেই বছরই ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। সেই একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করে শুরু করেন তাদের নতুন এক জীবন। তাই তারা তাদের নতুন ওই গ্রামের নাম রাখেন বাংলাদেশ!

উলার হৃদের তীরে এই গ্রামটি সৌন্দর্যে ভরপুর! চারদিকে পানি, পেছনে সুউচ্চ পর্বত, সব মিলিয়ে অসাধারণ এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে গোটা গ্রাম জুড়েই। তবে নাগরিক কিছু সাধারণ সুবিধা এখনও ঠিক ঠাকভাবে পৌঁছেনি গ্রামবাসীর কাছে। তাই তারা কোনো বিদেশি দেখলে আশ্চর্য হয়ে যান। বিদেশিরাও তো সেখানে যান মাঝেমধ্যে।

মাত্র ৭ বছর পূর্বে কাগজে কলমে পৃথক একটি গ্রামের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। বান্ডিপুরার ডিসি অফিস ২০১০ সালে এই আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেওয়া হয়। ৫/৬ ঘর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ গ্রামে এখন রয়েছে পঞ্চাশেরও বেশি ঘর। তবে এই প্রজন্মের অনেকেই গ্রামটির জন্ম ইতিহাস জানেন না। যেহেতু চারিদিকে শুধু পানি আর পানি তাই গ্রামবাসীর প্রধান জীবিকা হলো মাছ ধরা। সেইসঙ্গে তারা পানি ও বাদাম সংগ্রহ করে থাকেন।

ভাসমান এই গ্রামটি, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, কাশ্মীর সব মিলিয়ে যেনো আশ্চর্য কাকতালীয় যোগাযোগ বিরাজ করছে! শুনলেই কোথায় যেনো একটা মায়া কাজ করে। এর একটি কারণ আর তা হলো স্বাধীন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি জন্মের বছরে যে গ্রামটির জন্ম একাত্তরে সেই গ্রামটি সম্পর্কে আমাদের অনুভূতিতে কিছুটা হলেও নাড়া দেবে সেটিই স্বাভাবিক। বাংলাদশ নামে ওই গ্রামটির প্রতি রইলো আমাদের শুভ কামনা।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...