দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই কাজ, পরিবার ও দায়িত্বের চাপে নিজের জন্য আলাদা সময় রাখতে পারেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক সুস্থতার জন্য নিজের জন্য কিছু সময় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

নিজের জন্য সময় মানে শুধু বিশ্রাম নয়। এটি এমন সময়, যখন মানুষ নিজের পছন্দের কাজ করতে পারে। বই পড়া, গান শোনা, হাঁটাহাঁটি কিংবা নীরবে বসে থাকা- সবই হতে পারে নিজের সময় কাটানোর উপায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সবসময় কাজের চাপে থাকলে মানসিক ক্লান্তি বাড়ে। এতে বিরক্তি, উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখলে মন সতেজ থাকে এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
অনেকেই মনে করেন, নিজের জন্য সময় রাখা স্বার্থপরতা। কিন্তু বাস্তবে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ধ্যান, যোগব্যায়াম কিংবা প্রকৃতির কাছে সময় কাটানোও মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের যত্ন নেওয়া মানেই জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা। এতে ব্যক্তি আরও ইতিবাচক ও কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারেন। ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও নিজের জন্য কিছু সময় বের করা সুখী এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org