The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বরফের নিচে হাজার বছরের পুরোনো বনভূমির সন্ধান!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা অভিযানে উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফস্তরের নিচে এমন এক প্রাচীন বনভূমির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর জলবায়ু সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল- এমন ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বরফের নিচে হাজার বছরের পুরোনো বনভূমির সন্ধান! 1

গবেষকরা বরফ কোর, জীবাশ্ম উদ্ভিদ এবং মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখতে পান যে একসময় এই অঞ্চলে ঘন সবুজ গাছপালা জন্মাত এবং সেখানে বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস ছিল।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবীর জলবায়ু দীর্ঘ ইতিহাসে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বরফের নিচে সংরক্ষিত গাছের মূল, পরাগরেণু ও জৈব উপাদান বিশ্লেষণ করে অতীতের তাপমাত্রা ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে। ফলে এমন আরও বহু প্রাচীন নিদর্শন সামনে আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে উদ্বেগও রয়েছে, কারণ বরফ গলে গেলে আটকে থাকা অজানা জীবাণু বা প্রাচীন ব্যাকটেরিয়াও মুক্ত হতে পারে।

এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের কাছেও বিস্ময়কর, কারণ আজ যে স্থানকে আমরা বরফে ঢাকা নির্জন প্রান্তর হিসেবে দেখি, সেখানে একসময় সবুজ বনভূমি ছিল- এমন ধারণা কল্পনারও বাইরে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাচীন পরিবেশ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানা যাবে।

এই আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবী একটি পরিবর্তনশীল গ্রহ। হাজার বছরের ব্যবধানে প্রকৃতি এমনভাবে রূপ বদলাতে পারে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। তাই অতীতের এই নিদর্শন শুধু কৌতূহলই নয়, ভবিষ্যতের পরিবেশগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali