দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বনানীর এশিয়াটিক সেন্টারের বাতিঘর আর্ট স্পেসে আজ থেকে শুরু হয়েছে চিত্রশিল্পী ফারিনা সামহী নিথীর ১০ দিনব্যাপী প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী ‘সাইলেন্ট এক্সপ্রেশনস।’

শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলা মঙ্গলদ্বীপ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে।
ভার্টেক্স চেম্বার্স ও সাজিদা ফাউন্ডেশনের সহযোহিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পী ফারিনার অ্যাক্রিলিক পেইন্টিংয়ের এক বিশেষ কিউরেটেড সংগ্রহ, যেখানে ক্যানভাসের তুলি শব্দের সীমানা পেরিয়ে ভাব প্রকাশের অনন্য এক মাধ্যম হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিল্পী ফারিনা বিভিন্ন কর্মশালা ও একাধিক যৌথ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে নিজের শিল্পচর্চাকে গড়ে তুলেছেন এবং ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে নিজের কাজ প্রদর্শন করেছেন।

প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিভাবে এর উদ্বোধন করেন ওরাকল বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “মানুষের যে সবচেয়ে গভীর অনুভূতি, সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা, সবচেয়ে সুন্দর যে গল্পগুলো, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আজকের এই প্রদর্শনী তারই এক অনন্য উদাহরণ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা এবং চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

প্রদর্শনী সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে আফজাল হোসেন বলেন, “মানুষের অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম শুধু শব্দ বা ভাষা নয়, বরং তা গভীর উপলব্ধির বিষয়।” আগত দর্শনার্থীদের সেই গভীর আবেগের স্তরে গিয়ে শিল্পকর্মগুলো উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভার্টেক্স চেম্বার্স এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যথাক্রমে ব্যারিস্টার জুনায়েদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার সাজেদা ফারিসা কবির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও, মঙ্গলদ্বীপ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এর চেয়ারপারসন সারা যাকের এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শ্রিয়া সর্বজয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

শিল্পী ফারিনার কাছে ভিজ্যুয়াল আর্ট মূলত ভাষার সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার এক মাধ্যম। প্রদর্শনীর ‘সাইলেন্ট এক্সপ্রেশনস’ নামটি তার এই বিশ্বাসের প্রতিফলক যে, ক্যানভাস এবং রঙ যা বলতে পারে, তা অনেক সময় বলে প্রকাশ করা যায় না।
তাঁর শিল্পকর্মে প্রাণবন্ত রঙ এবং সাবলীল ফর্মের মিশ্রণই হয়ে উঠেছে প্রধান ভাষা, যা প্রদর্শনীতে আগত অতিথিদের এক নীরব ভাবনার জগতে আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে অনুভূতির প্রকাশ ঘটে দৃষ্টির গভীরতায়।
এশিয়াটিক মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের আর্ট ডিরেক্টর ফরিদুর রহমান রাজিবের কিউরেশনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে শিল্পী ফারিনার ৬১টি এক্রিলিক পেইন্টিং স্থান পেয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org