The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সয়াবিন তেল কতটা স্বাস্থ্যকর?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভোজ্যতেলগুলোর মধ্যে সয়াবিন তেল অন্যতম। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি জনপ্রিয়। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে-সয়াবিন তেল কী সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

সয়াবিন তেল কতটা স্বাস্থ্যকর? 1

সয়াবিন তেলে মূলত অসম্পৃক্ত চর্বি (Unsaturated Fat) বেশি থাকে, যা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এছাড়া এতে ভিটামিন ই এবং কিছু প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের বিভিন্ন কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেল পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করলে এটি সুষম খাদ্যের একটি অংশ হতে পারে। তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া হয়। অতিরিক্ত তেল শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে, যা ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা শরীরের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে ভাজাপোড়ার দোকানে একই তেল বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মানের সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। তাই বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের মানসম্মত এবং নিরাপদ তেল ব্যবহার করা উচিত। ভেজাল কিংবা নিম্নমানের তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পুষ্টিবিদরা আরও বলেন, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে শুধু একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি।

সয়াবিন তেল নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি কী পরিমাণে ও কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ব্যবহার, স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সয়াবিন তেল নিরাপদভাবে গ্রহণ করা যেতেই পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali