দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস সম্পর্কে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

দেশটির হাইল্যান্ড অঞ্চলে একটি প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো পাথরে বাঁধানো কূপের তলায় পাওয়া গেছে মানুষের কঙ্কাল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গবেষকদের ধারণা- ব্যক্তিটিকে দুর্ঘটনাবশত কূপে পড়ে যেতে হয়নি; বরং কূপটি আর পানি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার সময় কোনো বিশেষ আচার কিংবা রীতির অংশ হিসেবে সেখানে দেহটি রাখা হয়ে থাকতে পারে।
এই আবিষ্কারটি করা হয় একটি পাথর উত্তোলন প্রকল্পের সম্প্রসারণকাজের সময়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন প্রাচীন স্থাপনার চিহ্ন পরীক্ষা করছিলেন, তখন তারা কূপটির সন্ধান পান। কূপটি ছিল পাথরের তৈরি ও এর নির্মাণশৈলী থেকে বোঝা যায় যে এটি বহু শতাব্দী আগে মানুষের ব্যবহারে ছিল। কূপের সঙ্গে আশপাশের প্রাচীন বসতির সম্পর্কও এখন গবেষকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
কঙ্কালটির অবস্থানই গবেষকদের সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে। সাধারণভাবে প্রাচীন মানুষের সমাধি নির্দিষ্ট কবরস্থানে বা মাটির নিচে পাওয়া যায়। তবে পানির কূপের তলায় একটি মানুষের দেহ পাওয়া যাওয়া উত্তর স্কটল্যান্ডের লৌহযুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে বেশ বিরল। গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে এই ধরনের সমাধির নজির খুব বেশি নেই।
কঙ্কালের ওপর প্রাণীর হাড়ও পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সমাধি-সামগ্রী পাওয়া যায়নি, যা থেকে মৃত ব্যক্তির পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে জানা যায়। কঙ্কালটির বয়স, লিঙ্গ ও মৃত্যুর কারণ নিয়েও পরীক্ষা চলছে। যে কারণে ব্যক্তিটি কীভাবে মারা গিয়েছিলেন, সেটি এখনও অজানা।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি সম্ভাবনা হলো, কূপটি পরিত্যক্ত হওয়ার সময় সেখানে একটি ‘ক্লোজিং’ কিংবা সমাপ্তি-আচার করা হয়েছিল। প্রাচীন সমাজে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যবহার বন্ধ করার সময় সেখানে বিশেষ কোনো বস্তু কিংবা কখনও মানুষের দেহ রাখার নজির পাওয়া গেছে। এর পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাস, আত্মিক ধারণা বা কোনো সামাজিক রীতির ভূমিকা থাকতে পারে। তবে স্কটল্যান্ডের এই আবিষ্কারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো প্রমাণ এখনও হাতে আসেনি।
এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু একটি কঙ্কাল পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রাচীন স্কটল্যান্ডের মানুষের মৃত্যু, ধর্মীয় বিশ্বাস ও দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কূপটি কি শুধু পানির উৎস ছিল, নাকি স্থানীয় মানুষের কাছে এর আরও কোনো প্রতীকী গুরুত্ব ছিল- সেটিও গবেষণার বিষয়।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রত্নতাত্ত্বিকরা কঙ্কাল এবং অন্যান্য নিদর্শনের ত্রিমাত্রিক নথিও তৈরি করছেন। ভবিষ্যতে ডিএনএ বিশ্লেষণ, বয়স নির্ধারণ এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে হয়তো জানা যাবে, সেই মানুষটি কে ছিলেন ও কেনো তাকে কূপের তলায় সমাহিত করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, প্রায় দুই হাজার বছর পর একটি পুরোনো কূপ যেনো প্রাচীন মানুষের এমন এক গল্প সামনে এনেছে, যার অনেকটাই এখনও রহস্যেই ঢাকা। সেই রহস্যই এই আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম একটি বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক ঘটনা করে তুলেছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org