The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

হৃদরোগের মৃত্যু কমাবে কার্ডিয়াক ডিভাইস

এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো এনজাইনা পেইন যা সম্প্রতি ঘটতে পারে অথবা কয়েক মাস ধরে এমনকি বছরের পর বছর এটি হতে পারে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হার্ট অ্যাটাক আমাদের দেশে ও আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি রোগ। এই ভয়াবহ রোগ নিত্যদিন আমাদের আশেপাশের মানুষ আমাদের কাছের মানুষের সাথে এবং আমাদের সাথে হয়ে থাকে।

হৃদরোগের মৃত্যু কমাবে কার্ডিয়াক ডিভাইস 1

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ হলো আমাদের ধমনী ব্লক হয়ে যাওয়ার ফলে রক্ত সংবহনজনিত একটি সমস্যা যা তৎক্ষণাৎ কিংবা ধীরে আমাদের শরীরে ঘোটতে পারে। আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর ক্ষেত্রে এটি অনেকটা ইলেকট্রিক্যাল সমস্যা বা হৃদযন্ত্র কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক ঘটে। যদি স্বল্প সময়ের মধ্যে রোগীকে চিকিৎসার মধ্যে না রাখা হয় তাহলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো এনজাইনা পেইন যা সম্প্রতি ঘটতে পারে অথবা কয়েক মাস ধরে এমনকি বছরের পর বছর এটি হতে পারে। এটি খুবি ধির গতিতে আবার দেখা দিতে পারে বিশাল আকারেও।

বেশিরভাগ সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর ক্ষেত্রে দেখা যায় হূদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন যারা আরেকটি নাম হলো অ্যারিদমিয়াস যার ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর মতো সমস্যা সংগঠিত হয়ে থাকে। হৃদস্পন্দনের অনিয়মিত হওয়ার ফলে প্রাণনাশের ঝুকি বারতে পারে হূদযন্ত্রের এই অনিয়মিত স্পন্দন এর ফলে আমাদের শরীরের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা অনেকাংশে কমতে থাকে। যার ফলে রোগীর মৃত্যুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটতে পারে। এমতা অবস্থায় রোগির উপযুক্ত চিকিৎসা অনিবার্য তা না হলে রোগীর মৃত্যু ঘটার সুযোগ বেশি থাকে।

Cardiac device

ডায়াবেটিসের, হাইপার টেনসন, এর মত সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের জন্য এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীদের প্রতিনিয়ত সময় করে হার্টের পরীক্ষা ও ডাক্তারের পরামর্শ তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন। এতে করে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে যাদের হৃদযন্ত্রের রক্ত তুলনামূলক কম পাম্প হয় তাদের ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অতিমাত্রায় থাকে। এক্ষেত্রে রক্তের পম্পের সক্ষমতা ৩৫৫ অথবা তার কম হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

তবে এই আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর হাত থেকে রক্ষার জন্য সম্প্রতি বাজারে এল ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিও ভাস্কুলার ডিফাইব্রিলেটর নামক একটি ছোট আকারের মেশিন যা আমাদের হৃদরোগ ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট চিকিৎসায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চমৎকার এই যন্ত্রটি পেসমেকারের ন্যায় কাজ করে থাকে এবং এটি হৃদ গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই মেশিনের ব্যবহারের ফলে আমাদের হৃদের গতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত থাকে।

ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিও ভাস্কুলার ডিফাইব্রিলেটর নামক একটি ছোট আকারের মেশিনকে সংক্ষেপে আইসিডি বলা হয়ে থাকে।

এই আইসিডি যন্ত্রটি ধারাবাহিকভাবে আমাদের হৃদয়ের গতির উপর নজর রাখে এবং স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখনই আমাদের হৃদযন্ত্র চলাচলও অস্বাভাবিক ছন্দে চলতে থাকে তখনই এই মেশিন আমাদের হৃদে এনার্জি প্রদান করে থাকে। হৃদপেশী প্রদানকৃত এনার্জি ফলে আমাদের হৃদয়ের গতি আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে। হৃদ যন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আইসিটি তার প্রতিটি কর্মপদ্ধতি রেকর্ড করে রাখতে সক্ষম। এছাড়া কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে আরো উন্নত ডিভাইস কার্ডিয়াক রিসিঙ্ক্রোনাইজেশন থেরাপি ডিফাইব্রিলেটর (সিআরটি-ডি) ব্যবহার করতে দেয়া হয়ে থাকে যার ফলে তারা পেসমেকার আইসিডি উভয়ের কম্বিনেশন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানাবিধ অগ্রগতির সাথে এধরনের হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এই ডিভাইস ব্যবস্থাসমূহ। তবে হৃদরোগের জন্য রোগীদের আরো সতর্ক ও নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। নিজেদের সতর্কতার পাশাপাশি তাদের কার্ডিয়াক প্রফাইল সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ করতে হবে।

Loading...