The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

যে জিনিসগুলো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায়

আমাদের পৃথিবীতে রয়েছে ব্যবহারযোগ্য সহস্ত্র জিনিস যা মানবকল্যাণের সেবায় ও বসবাস উপযোগী করে তুলেছে আমাদের সকল মানবজাতিকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমাদের আধুনিক যুগের পৃথিবীতে আবিষ্কার হচ্ছে হাজারো বিস্ময়কর সকল জিনিসপত্র। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষ ব্যবহার হচ্ছে অজস্র সম্পদ। যে কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে আদি যুগের জিনিসগুলো।

যে জিনিসগুলো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায় 1

আমাদের পৃথিবীতে রয়েছে ব্যবহারযোগ্য সহস্ত্র জিনিস যা মানবকল্যাণের সেবায় ও বসবাস উপযোগী করে তুলেছে আমাদের সকল মানবজাতিকে। ঠিক একইভাবে আমাদের এই পৃথিবী থেকে অনেক সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এমনকি ফুরিয়ে গিয়েছেও। মূলত ঠিক মতো ব্যবহার না করার কারণে এসব জিনিস বিলুপ্ত হতে চলেছে আমাদের দেশ থেকে এবং আমাদের পৃথিবী থেকে। নিয়মিত ব্যবহার না করা, অযত্ন, অবহেলা ও নতুন প্রযুক্তিতে ঝুঁকে যাওয়ার ফলে আমাদের পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক প্রয়োজনীয় সম্পদসমূহ। আজকে এমন কিছু সম্পদ নিয়ে আমরা আলোচনা করব যা আমাদের পৃথিবীতে থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে।

মাটি

আমাদের পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে অংশটি ও সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যে সম্পদটি আমরা ব্যবহার করে থাকি তা হচ্ছে মাটি। এই মাটি পৃথিবী থেকে হঠাৎ করে কোথাও উড়ে যেতে পারবে না বা বিলুপ্ত হতে পারবেনা কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে মাটি নিয়েও রয়েছে হাজার উদ্বেগ। মাটির বিভিন্ন স্তর রয়েছে যা আমাদের সকলেরই প্রায় জানা ঠিক এরকমই মাটির সবচেয়ে উপরের স্তরের মধ্যে জন্মায় গাছগাছালি ও উদ্ভিদসমূহ। মাটির এই উপরিভাগ থেকে গাছপালারা তাদের পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে থাকে এবং গ্রহণ করে থাকে পানি যার দ্বারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিত খাদ্য তৈরি করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করার সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন নির্গত করে থাকে যার ফলে উদ্ভিদ পৃথিবীর একটি অমূল্য সম্পদের মধ্যে একটি। কিন্তু এই উদ্ভিদের বেঁচে থাকার অংশ মাটি এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। গত ১৫০ বছরে বিশ্বের মোট ভূমির অর্ধেকের মত উপরের মাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করেন ডব্লিউডব্লিউএফ নামের একটি এনজিও যারা বিশ্ব প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করে চলেছে দিনের পর দিন। তাদের মতে মাটির উপরিভাগের এরূপ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াটা পৃথিবীর জন্য হুমকিস্বরূপ।

বালি

পৃথিবীতে নগরায়ন ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বালি একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে যুগের পর যুগ ধরে। প্রাকৃতিক ভাবে আমরা যে পরিমাণ বালু পেয়ে থাকি তার থেকে অধিক পরিমাণে বেশি ব্যবহার করা হয়ে চলেছে দিনের পর দিন যার কারণে দ্রুত গতিতেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বালি। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যে পদার্থটি ও যে কঠিন পদার্থ টি তুলে নেয়া হয় তাই হচ্ছে বালু। আমরা অনেকেই ভাবতে পারি যে পৃথিবীতে বালুর ঘাটতি হওয়ার কথা নয় কারণ রয়েছে অনেক সমুদ্র সৈকত রয়েছে মরুভূমি কিন্তু এটাই সত্য যে প্রচুর পরিমাণে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে যার সঙ্গে নুড়িপাথর সংযুক্ত থাকে। জাতিসংঘের নানান বিবৃতিতে বলা হয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে যে হারে আমরা বালু তৈরি করি তার থেকে অধিক বেশি পরিমাণে বালু ব্যবহার হয়ে চলেছে এর ফলে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম পড়ছে হুমকির মুখে।

ফসফরাস

ফসফরাস আমাদের পৃথিবীতে পাওয়া একটি অন্যতম ব্যবহারযোগ্য পদার্থ যা আমরা আগুন জ্বালানোর কাজে দিয়াশলাই এর মধ্যে ব্যবহার করে থাকি। বর্তমানে যে ফসফরাস এর ব্যবহার হচ্ছে তাতে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমান্বয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। ফসফরাস সর্বাত্মকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষি কাজে সার হিসেবে যা আমাদের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জীবন ব্যবস্থাকে ও সহজ করে থাকে। এছাড়া ফসফরাস মানবদেহের শরীরে ডিএনএ গঠনের জন্য বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে যে হারে ফসফরাস এর ব্যবহার ও অপব্যবহার চলছে তাতে ধারণা করা যায় আগামী ৩৫ বছর থেকে ৪০০ বছরের মধ্যে এর যোগান শেষ হয়ে যাবে। ফসফরাস এর ব্যবহার ও অপব্যবহার ক্ষেত্রে এর মজুদ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে চলছে নানাবিধ সংস্থা ও সংগঠন।

হিলিয়াম

হিলিয়াম আমাদের পৃথিবীতে খুবই সীমিত একটি সম্পদ যা মাটির নিচে পাওয়া যায়। হিলিয়াম গ্যাস মাটির অনেক গভীর থেকে উত্তোলন করা হয় যা বেলুনে বেশিরভাগ ব্যবহার করা। এছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্রেও হিলিয়ামের অনেক ব্যবহার রয়েছে। তবে হিলিয়াম গ্যাসের এরূপ বেপরোয়া ব্যবহারের ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই এই গ্যাস পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যাওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় আমাদের কাছে যে পরিমাণ হিলিয়াম গ্যাস মজুদ রয়েছে তা ব্যবহারের ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই ফুরিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

এছাড়া আমাদের পৃথিবীর কক্ষপথের তার আয়তন রয়েছে হুমকির মুখে। আমাদের কক্ষপথে এখন পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি এছাড়া বিভিন্ন ধরনের জিনিস পৃথিবীর চারিদিকে কক্ষপথকে ক্রমাগত ভারী করে তুলেছে। অতীব হারে স্যাটেলাইট ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার করার কোন প্রযুক্তিও এখন পর্যন্ত মহাকাশে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এভাবে চলতে থাকে খুব কম সময়ের মধ্যেই আমাদের কক্ষপথের জায়গাটিও সংকুচিত হতে থাকবে যার ফলে আমাদের কক্ষপথ হয়ে উঠবে ছোট হারাবে তার আয়তন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...