দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার বিজ্ঞানীরা নতুন এক সতর্কতা নিয়ে আলাপ শুরু করেছেন। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা পতনের খুব কাছাকাছি চলে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে যে, পৃথিবীর মোট ভূমির ৬০ শতাংশ বর্তমানে বিপৎসীমার বাইরে চলে গেছে। এইসব এলাকায় স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। মূলত বন উজাড়, কৃষিকাজ এবং শিল্প প্রসারের কারণে এইসব এলাকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, পানির সরবরাহ এবং জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, কার্বন, পানি এবং নাইট্রোজেন চক্রের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকা এই ক্ষতির শিকার সবথেকে বেশি।
বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ অঞ্চল বলতে এমন পরিবেশগত সীমানাকেই বোঝানো হয়ে থাকে, যার ভেতরে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা গুরুতর ব্যাঘাত ছাড়াও কাজ করতে পারে। প্রাণের অখণ্ডতা কিংবা বায়োস্ফিয়ার ইন্টিগ্রিটি হিসেবেও বিষয়টি বলা হয়। গাছপালা, প্রাণী এবং প্রাকৃতিক বিভিন্ন চক্র ও প্রক্রিয়ার মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়।
সাধারণভাবে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে গাছপালা কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বাস্তুতন্ত্রজুড়ে শক্তির প্রবাহও বজায় রাখে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় কার্বন, পানি ও নাইট্রোজেন চক্রও নিয়ন্ত্রিত হয়। এইসব চক্র পৃথিবীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। আর যখন বন ধ্বংস করা হয়, জলাভূমি শুকিয়ে যায় এবং কৃষিভূমি অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রসারিত হয়, তখন বিভিন্ন চক্র রীতিমতো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ এবং ভিয়েনার বোকু ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বেই এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি ওয়ান আর্থ জার্নালে প্রকাশিত হয়। ১৬০০ সাল পর্যন্ত ঐতিহাসিক ডেটা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবী কতোটা নিরাপদ সেটি মূল্যায়ন করেছেন। ১৯০০ সাল নাগাদ পৃথিবীর প্রায় ৩৭ শতাংশ ভূমিই অনিরাপদ অঞ্চল হয়ে ওঠে। সেই সময় ১৪ শতাংশ ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বর্তমানে ৬০ শতাংশ এলাকা অনিরাপদ এবং ৩৮ শতাংশ এলাকা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ইউরোপ, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা। এই অঞ্চলে ১৬০০ সাল থেকে শিল্পায়ন, কৃষির প্রসার এবং বন উজাড়ের মতো কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করেছে। বনভূমি ও তৃণভূমিকে কৃষিভূমিতে রূপান্তরিত করা ও জলাভূমির ক্ষতিই পরিবেশগত পতনের প্রধান একটি কারণ।
বিজ্ঞানী ফ্যাবিয়ান স্টেনজেল বলেছেন, খাদ্য উৎপাদন, উপকরণ এবং জৈবশক্তির কারণে জৈববস্তুর জন্য মানুষের চাহিদা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। পটসডাম ইনস্টিটিউটের আর্থ সিস্টেম অ্যানালাইসিস বিভাগের বিজ্ঞানী উলফগ্যাং লুচট বলেছেন, অতিরিক্ত চাহিদা প্রাকৃতিক শক্তির প্রবাহকে ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org