The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আসছে শীত ফাটবে পা

শীতে ঠোঁট ফাটার পাশাপাশি খুবই ভয়াবহ ভাবে আমাদের অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীত মানেই বাতাসের আদ্রতা কমে যাওয়া আর এই আবহাওয়াতেই আমাদের শরীরের উপরের ত্বকে দেখা দিতে পারে নানাবিধ জটিলতা। এই সময়ে বাতাসে আদ্রতা কমে যাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের হাত পা এর উপরের ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে দেখায় শুষ্কতা এবং হাত পা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

আসছে শীত ফাটবে পা 1

শীতে ঠোঁট ফাটার পাশাপাশি খুবই ভয়াবহ ভাবে আমাদের অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা শীতকালে আমরা অনেকেই ভুগি যার ফলে পায়ের নানাবিধ অংশ দেখা দিতে পারে ক্ষত। শীত এলে আমাদের অনেকেরই পা ফাটা শুরু হতে থাকে শীতকালে বাতাসের আদ্রতা কমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যার উৎপত্তি হয় যার ফলে ত্বক শুষ্ক হতে থাকে এবং পায়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরতে শুরু করে। পায়ের গোড়ালি ফাটার ফলে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভূত হতে পারে যার ফলে পায়ে জ্বালাপোড়া করা, ক্ষত হয়ে যাওয়া, এবং এমনকি রক্তপাত পর্যন্ত ঘটতে পারে। বেশি পরিমাণে ফাটা হলে তার মধ্যে জীবাণু বাসা বাধতে পারে জীবনু যার ফলে পায়ে জিবানু সংক্রমণ অতীব হারে বৃদ্ধি পায়।

শীতকালে পা ফাটা যেমন স্বাভাবিক ঠিক কারো কারো ক্ষেত্রে এটি খুবই অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। যেমন সোরিয়াসিসের রোগীদের পা ফাটা শীতকালে অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিস ও বিশেষ করে ডায়াবেটিস জনিত জটিলতা থাকলে তাদের এ সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস জনিত সমস্যার ফলে শীতকালে পায়ের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এবং যাদের স্নায়ু রোগ রয়েছে তাদের ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে থাকে এবং এর ফলে শীতকালে তাদের পায়ের গোড়ালি ফাটা আশঙ্কা বেশি হয়ে থাকে। পা ফাটার সমস্যার ফলে আমাদের মধ্যে অনেকেই ঠিকমতো হাঁটতেও সক্ষম হয় না। পা ফেটে গেলে তাতে পানি ব্যবহার করলে ক্ষত জায়গায় আরো বেশি নরম হয়ে পড়ে এবং যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে থাকে ধীরে ধীরে। এমতাবস্থায় ঘর থেকে বাইরে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে পায়ের সঠিক যত্ন ও শীতকালে পা ফাটার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে ওঠা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তাহলে আসুন জেনেনি শীতকালে পা ফাটা রোধ করার কিছু ঘরোয়া উপায়।

শীতকালে শরীরের নানা আমাদের শুষ্ক হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে কিছু সঠিক যত্নের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফাটা থেকে উপশম লাভ করতে পারি। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে আমাদের পায়ের ত্বক শুষ্ক না হতে পারে সে ক্ষেত্রে পায়ের ত্বককে শুষ্ক না করার জন্য পায়ে মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। পায়ের বিভিন্ন অংশে মশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আমাদের পা শুষ্ক হয়ে ওঠে না যার ফলে পা ফাটার আশঙ্কা কমে যায়। মশ্চারাইজার লাগানোর ক্ষেত্রে আমাদের পা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে তারপর তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকনো কাপড় দ্বারা মুছে ফেলতে হবে। পরবর্তীতে মুছে ফেলা অংশে মশ্চারাইজার লাগাতে হবে প্রতিদিন নিয়ম করে দুই থেকে তিনবার এটি লাগালে আমাদের পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ হয়ে যাবে। নিয়মিত গোসল করার পরেও হাতে পায়ে মশ্চারাইজার ব্যবহার করা শ্রেয়। মশ্চারাইজার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আমরা অনেকেই শীতকালে গ্লিসারিন ব্যবহার করে থাকি যা এক ধরনের মশ্চারাইজার। গ্লিসারিন ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং শীতকালে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে যায়। পা পরিষ্কার করতে হলে আমাদেরকে হালকা স্ক্রাবার ব্যবহার করতে হবে এবং এতে করে যাতে আমাদের পায়ের মরা চামড়া গুলো উঠে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পায়ে স্ক্রাবার দ্বারা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে খুব বেশি জোরে ঘষা না দেওয়া হয় তাতে করে ক্ষত স্থানে রক্তক্ষরণ হতে পারে। আমাদের পায়ে কেরাটোডারমা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি মূলত আমাদের পায়ের ত্বককে পুরো ও মোটা করে তোলে এমতাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। যদি আমাদের পায়ে রক্তপাত ঘটে বা খুব খারাপভাবে ক্ষত সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করা বান্ছনীয়।

Loading...