The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ড. অমিতাভ নন্দী করোনা ভাইরাস হতে বাঁচার উপায় জানালেন

ড. অমিতাভ নন্দী বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই যে মানুষ মারা যাচ্ছেন বিষয়টা একেবারে তা নয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেই এই রোগ হতে সেরে ওঠা সম্ভব’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চীনের উহান অঞ্চল হতে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি নাগরিক। এবার ড. অমিতাভ নন্দী করোনা ভাইরাস হতে বাঁচার উপায় জানালেন।

ড. অমিতাভ নন্দী করোনা ভাইরাস হতে বাঁচার উপায় জানালেন 1

এ পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগকে এইডসের থেকেও মরণঘাতীই বলা হচ্ছে।

তারপরও করোনা ভাইরাস হতে কীভাবে বাঁচা যাবে তার কিছু উপায় ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ড. অমিতাভ নন্দী।

ড. অমিতাভ নন্দী বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই যে মানুষ মারা যাচ্ছেন বিষয়টা একেবারে তা নয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেই এই রোগ হতে সেরে ওঠা সম্ভব’।

ভাইরোলজিস্ট ড. অমিতাভ নন্দী বলেছেন, ‘ভাইরাসটি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। তাই শুরুতে আলাদাভাবে বোঝার কোনো উপায় নেই যে কেও এতে আক্রান্ত হয়েছে কিনা। অনেক বছর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। করোনা ভাইরাস ওই দুই ভাইরাস জাতীয় বা গোত্রীয়।’

ড. অমিতাভ নন্দী বলেছেন, ‘মিউটেশনের মাধ্যমে এই ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হয়ে গেছে। পশুর দেহে প্রথম বাসা বেঁধেছিল এই ভাইরাসটি। তারপর এটি তার জিনগত পরিবর্তন এনে মানুষের দেহে প্রবেশ শুরু করেছে। মানুষ হতে মানুষে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এটি।’

এ পর্যন্ত কার্যকর প্রতিষেধক আবিস্কার না হলেও বেশকিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এই করোনা ভাইরাস হতে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ভাইরোলজিস্ট অমিতাভ নন্দী। আসলে কী সেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা?

ভাইরোলজিস্ট অমিতাভ নন্দী বলেছেন:

# খুব সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
# মুখে নাকে হাত দেওয়া মোটেও চলবে না।
# হাঁচি পেলে বা কাশি পেলে টিস্যু, রুমালের ব্যবহার করতে হবে।
# কিছুই না থাকলে মুখ ঢেকে হাঁচতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই হাত ধুঁয়ে ফেলা জরুরি।

সেই সঙ্গে ড. অমিতাভ নন্দী যোগ করেছেন:

# পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
# হাঁচি, সর্দি, কাশি এই ধরনের জিনিস মোটেও জিইয়ে রাখা যাবে না।
# এমন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কী ঘটেছিল, অর্থাৎ কয়েকদিনের মধ্যে কারও সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা এই সমস্ত বিষয়গুলো খুলে বলতে হবে।

অমিতাভ নন্দী জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে যে চরিত্র আগে দেখা যায়, তা হচ্ছে এই রোগ নিজে নিজেই সেরে যায়। যাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা একেবারে কম তাদের ভাইরাসটি আক্রমণ করে বেশি। তাই সেভাবে যদি দেখা যায় তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে সাধারণ মানুষের চিন্তিত হওয়ার খুব একটা কারণ নেই।’

ড. অমিতাভ নন্দী আরও বলেছেন:

# কারও সর্দি-কাশি হলে তাকে আলাদা করে রাখা জরুরি।
# রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে একেবারে আলাদা রাখতে হবে।
# রোগীর সমস্ত কিছুই আলাদা রাখতে হবে, যাতে করে অন্য কারোর তার থেকে রোগ না ছড়ায়।

ড. অমিতাভ নন্দী বলেছেন যে, ‘এই ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে একেবারে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ড প্রয়োজন হয় এবং যিনি এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেই রোগীর জন্য বিশেষ বিছানাও রাখতে হবে। তার ঘরের বাতাস যাতে বাইরে না যায় কিংবা গেলেও পরিশুদ্ধ হয়ে যায় সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...